অপারেশন সার্চলাইট কি?

অপারেশন সার্চলাইট

বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। শেখ মুজিব-ইয়াহিয়া-ভুট্টোর আলোচনার আড়ালে বাঙালিদের স্বাধিকারের ইচ্ছা ধুলোয় মিশিয়ে দেবার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া, টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। টিক্কা খান ও তার দোসররা বাংলার মানুষের গণজাগরণকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য ২৫ মার্চ কালরাত্রে যে ঘৃণিত, নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে তা বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত।

অপারেশন সার্চলাইটঃ বাংলার জনগণের স্বাধীনতা-স্বাধিকার আন্দোলনের গণজাগরণকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক শাসকের নির্দেশে নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালিদের উপর যে ঘৃণ্য, নৃশংস, বর্বর গণহত্যা চালিয়েছিল তাই অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। মূলত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে বাঙালিদের দমন করার মনস্থির করেছিলেনে। এজন্য জেনারেল টিক্কা খান ও মে. জে. খাদিম হোসেন এবং রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। আর এ লক্ষ্যে ১৯ মার্চ থেকে পূর্ববাংলার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল ফরমানের হাতে লেখা পরিকল্পনা জেনারেল হামিদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান পর্যালোচনা করেন। জেনারেল হামিদ তাৎক্ষণিকভাবে বাঙালি সেনা ইউনিটগুলোকে নিরস্ত্র করার সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ই.পি.আর, সশস্ত্র পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনীদের নিরস্ত্র করার অনুমতি দেন। অতঃপর ইয়াহিয়া টিক্কা খানের গোপন বৈঠকে বাঙালি জাতিকে হত্যা করার নীলনকশাটি প্রণীত হয়। তবে ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেন। আর জেনারেল টিক্কা খান নীলনকশাটি বিভিন্ন সেনাছাউনির অধিনায়কের নিকট পাঠান। ইয়াহিয়ার নির্দেশে ২৫ মার্চ রাত প্রায় ১০টার দিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞ বাঙালিদের উপর চালানো হয়। ঐ রাতে প্রায় ৫০,০০০ লোক ঢাকায় নিহত হয়। বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকবাহিনী কর্তৃক নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির উপর পরিচালিত এ সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম অপারেশন সার্চলাইট।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

জাতীয় পতাকা দেশ ও জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক। পৃথিবীর প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশেরই নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে। ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের আরো পড়ুন

কুদরাত-এ-খুদা কে?

আমাদের দেশের যে ক’জন কৃতী সন্তানের জন্য আমরা গর্ব অনুভব করতে পারি বিজ্ঞানী মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদা তাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন একাধারে আরো পড়ুন

‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি কি?

ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাদের ‘ভাগ কর ও শাসন কর নীতি’ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনকে অপরিহার্য্য করে আরো পড়ুন

তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার সংগ্রাম
তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার সংগ্রাম

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে বাঙালি কীর্তিমান পুরুষ তিতুমীর ছিলেন এক উদীয়মান নক্ষত্র। ধর্মীয় ও আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।