আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ কি?

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ পৃথিবীর ভাগ্য নিয়ামক যুদ্ধগুলোর অন্যতম। ১২৬০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আইন-ই-জালুত প্রান্তরে মোঙ্গল বাহিনী ও কুতুবের বাহিনী পরস্পরের সম্মুখীন হয়। এই যুদ্ধে মোঙ্গলরা পরাজিত হয়।

যুদ্ধের পটভূমিঃ আইবেকের হত্যার পর মামলুকরা তার বালক পুত্র আলীকে সিংহাসনে বসায়। কিন্তু বালক রাজাকে পদচ্যুত করে কুতুব ১২৫৯ সালে সিংহাসনে বসেন। এ সময় কুখ্যাত হালাকু খানের অভ্যুদয় ঘটে। মোঙ্গল বাহিনী বাগদাদ ধ্বংস ও আব্বাসীয় খলিফাকে হত্যা করে (১২৫৮) পশ্চিম এশিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১২৬০ সালে মোঙ্গল বাহিনী সিরিয়ারাজ নাসিরকে পরাজিত করে গাজা পযর্ন্ত অগ্রসর হয়। হালাকু খান তার অধীনতা স্বীকার করে নেয়ার জন্য কুতুবের নিকট পত্র লেখেন। মিসররাজ কুতুব মোঙ্গল দূতগণের ছিন্ন মস্তক ‍জুবায়লা দ্বারে ঝুলিয়ে দিয়ে পত্রের প্রত্যুত্তর দেন।

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধঃ কুতুবের ব্যবহারে মোঙ্গল বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মিশর আক্রমণ করে। মিশরের খ্রিস্টানরা প্রথমে আক্রমণকারীদের বিজয় কামনা করলেও তাদের বর্বরতায় বিরক্ত হয়ে শেষ পযর্ন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করে। ১২৬০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মোঙ্গল বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণ করলে মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মোঙ্গলরা বিশৃঙ্খলভাবে পলাতকদের পশ্চাদ্ধাবন করলে বায়বার্সের নেতৃত্বে মামলুকরা মোঙ্গলদের উপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুতুব ও বায়বার্সের পরাক্রমে মোঙ্গল বাহিনীর পরাজয় ঘটে। মোঙ্গল সেনাপতি কেতবুগা নিহত হলে মোঙ্গলরা পালিয়ে যায়।

যুদ্ধের গুরুত্বঃ আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হলে মিশরে মোঙ্গল বিজয় মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সাধন করত। এই যুদ্ধে মামলুকদের বিজয়ের ফলে তারা ইরাকের মতো ধ্বংসযজ্ঞের হাত হতে নিষ্কৃতি লাভ করে এবং পাশাপাশি বর্বর মোঙ্গলদের হাত থেকে ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপাদানগুলো রক্ষা পায়।

আইন-ই-জালুত যুদ্ধে মোঙ্গলদের পরাজয়ের সংবাদ দামেস্ক পৌছালে দামেস্কবাসী স্থানীয় সকল মোঙ্গলকে বধ করে। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মুসলমানদের বিরুদ্ধাচরণ করায় অনেককে হত্যা করা হয়। মোঙ্গল বাহিনী যে সমস্ত শহরে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল সেই সব নগরীতে শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়। আইয়ুবী শাহজাদারা তাদের করদ রাজ্যরূপে এমেসা ও হামাস-এর সিংহাসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেন। আলেপ্পা ও ইউফ্রেটিস পযর্ন্ত সমগ্র জনপদে কুতুরের নামে খুতবা পাঠ শুরু হয়। অবশ্য আইন-ই-জালুতের যুদ্ধে বীরত্বের পরিচয়দানকারী বায়বার্সের হাতে কুতুব অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিহত হন। বায়বার্স মিশরের সিংহাসনে বসেন।

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত হওয়ায় মুসলিম নিকট প্রাচ্য আবার মিসরের অধীনে একত্র হয় এবং ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।  

মনসব বা মনসবদার কি?

মনসবদারী প্রথা সম্রাট আকবরের সমকালীন পৃথিবীর সামরিক সংস্কারের ইতিহাসে এক অভিনব সংযোজন। সম্রাট আকবর তার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার আলোকে সামরিক আরো পড়ুন

মুহতাসিব বলতে কি বুঝ?

আব্বাসীয় শাসনামলে সর্বপ্রথম পুলিশ বিভাগের সমান্তরালে দিওয়ান আল হিসবা নামে একটি বিশেষ বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তৃতীয় আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদি ছিলেন আরো পড়ুন

মুঘল বিচার ব্যবস্থা
মুঘল বিচার ব্যবস্থা

যে কোন রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য। তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘলদের বিচার ব্যবস্থা আরো পড়ুন

বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কেন?

ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পূর্ববাংলার মুসলমানরা তাদের স্বার্থের অনুকূলে ভেবে বঙ্গভঙ্গকে আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।