আইয়ুব খানের পরিচয়

আইয়ুব খান

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে আইয়ুব খান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ছিলেন একজন উচ্চাভিলাষী পাঠান। তিনি ছিলেন ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট (Sandhurst) থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, পূর্ব বাংলার জে. ও সি. এডজুজান্ট জেনারেল এবং ‘কেবিনেট অব টেলেন্টস’ (মোহাম্মদ আলীর ১৯৫৪ সালের মন্ত্রিসভা)-এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি রাজনীতি ও প্রশাসনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল হন। অতঃপর সেনাপ্রধান আইয়ুব খান এক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে (২৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আইয়ুব খানের পরিচয়ঃ জেনারেল আইয়ুব খানের পূর্ণ নাম হলো মোহাম্মদ আইয়ুব খান তারীন। তিনি ১৯০৭ সালের ১৪ মে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের হাজারা জেলার হরিপুরের নিকটবর্তী রেহানা (Rehana)নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মীর দাদ খান (Mir Dad Khan)-এর দ্বিতীয় স্ত্রীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। মৌলিক শিক্ষার জন্য আইয়ুব খান চার মাইল দূরবর্তী সারাই সালাহর (Sarai Saleh) একটি স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি হরিপুরের একটি বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন। শৈশবে তার পছন্দের খেলা ছিল কাবাডি, গুলি ডাণ্ডা, মার্বেল ও হকি (Kabaddi, Gulli Danda, Marbles and Hockey)। ১৯২২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের পর আইয়ুব খান আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে স্যান্ডহাস্ট রয়াল মিলিটারি কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯২৮ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার পদে যোগদান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে আইয়ুব খান ছিলেন বার্মার (বর্তমান মায়ানমার) একটি রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এবং ভারতীয় একটি ব্যাটালিয়ানের কমান্ডেড। অতঃপর ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির পর নতুন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ১৯৪৮ সালে মেজর জেনারেল এবং ১৯৫১ সালে কমান্ডার-ইন-চিপ পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে জেনারেল আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে হটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৭৪ সালের ১৯ এপ্রিল ৬৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে অবিভক্ত পাকিস্তানের দুটি অংশের মধ্যে বৈষম্য অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বাধিক বৃদ্ধি পায় এবং শাসনকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন স্বৈরাচারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ইতিহাসে একজন স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।   

তিতুমীরকে বাংলার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলা হয় কেন?

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে যে কয়জন কীর্তিমান পুরুষের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তাদের মধ্যে তিতুমীর ছিলেন অন্যতম। অসীম সাহসী ও আরো পড়ুন

দেওয়ানি বলতে কি বুঝায়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে কোম্পানি তথা ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে আরো পড়ুন

নবাব সলিমুল্লাহর পরিচয়
নবাব সলিমুল্লাহর পরিচয়

বাংলার রাজনীতিতে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ এক অনবদ্য ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের সামগ্রিক উন্নয়নে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অনস্বীকার্য্য। আরো পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা
মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল তৎকালীন এক পরাক্রমশালী পরাশক্তি। রাশিয়ার সমর্থন ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গতি পায় ও আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।