আল-আজিজ কে?

খলিফা আল মুইজের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র নিসার আল মনসুর “আল আজিজ বিল্লাহ” উপাধি গ্রহণ করে ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় খিলাফতের পঞ্চম খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন। তার সুদীর্ঘ ২২ বৎসরের রাজত্বকালে ফাতেমীয় প্রতিপত্তি ও গৌরব চরম শিখরে উঠেছিল।

কৃতিত্বঃ খলিফা আল আজিজ উদার, সুদক্ষ ও প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন। তিনি হেজাজ ও মসুল, ইয়েমেন, আলেপ্পো প্রভৃতি অঞ্চলে ফাতেমীয় অধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি তার ঘোরতর শত্রু হাফতাকিনকে ক্ষমা প্রদর্শন করে মহত্ব ও উদারতার পরিচয় দেন। তিনি সংকীর্ণতার উর্ধ্বে থেকে সকল সম্প্রদায়ের লোকজনকে রাজকাজে নিয়োগ করতেন। তিনি পরধর্মে সহিষ্ণু ছিলেন। তার আমলে কপটিক, ইহুদী ও খ্রিস্টানরা স্বাধীনতা ভোগ করত।

আল-আজিজের সময় সম্রাজ্যের সর্বত্র অর্থনৈতিক অবস্থা অতি উন্নত ছিল। মিশর, প্যালেষ্টাইন, জর্ডান, সিরিয়া, মরক্কো, ইত্যাদি উর্বর ভূমি খলিফার অধীনের থাকায় সম্রাজ্যে প্রচুর অর্থে সমাগত হতো।

খলিফা আল-আজিজ একজন শিল্প ও সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। কবিতার প্রতি ছিল তার প্রবল আকর্ষণ। তিনি সর্বদা জ্ঞানী ও পণ্ডিতদের সমাদর করতেন। শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন।

আল-আজিজ স্থাপত্য শিল্পের প্রতিও অনুরাগী ছিলেন। তিনি সম্রাজ্যের সর্বত্র মাদ্রাসা ও মসজিদ, প্রাসাদ সরাইখানা, সেতু নির্মাণ করেন।

খলিফা আল আজিজ অত্যন্ত বিলাসী জীবন যাপনে আগ্রহী ছিলেন। তিনিই মিশরে প্রথম পারসিক কায়দায় দরবার সুসজ্জিদ ও আড়ম্বরপূর্ণ এবং বিলাসী জীবন যাত্রা প্রবর্তন করেন। তার মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছেদ ও প্রসাধনী দ্রব্য বিদেশ হতে আমদানি করা হতো।

খলিফা আল-আজিজ বিলাসী জীবন যাপন করলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ, সাহসী দয়ালু, ন্যায়পরায়ণতা, প্রজারঞ্জক ও মহানুভব শাসক। ৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই অক্টোবর এ মহান খলিফা মৃত্যুমুখে পতিত হন। আমীর আলী বলেন, “তার মৃত্যুর সাথে সাথে ফাতেমীয়দের গৌরবান্বিত যুগের অবসান ঘটে।

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ কি?

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ পৃথিবীর ভাগ্য নিয়ামক যুদ্ধগুলোর অন্যতম। ১২৬০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আইন-ই-জালুত প্রান্তরে মোঙ্গল বাহিনী ও কুতুবের বাহিনী পরস্পরের সম্মুখীন আরো পড়ুন

কুরাইশদের বাজপাখী বলা হয় কেন?

স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠা আবদুর রহমান আদ-দাখিলকে ‘কুরাইশদের বাজপাখী’ (Falcon of the Quraish) বলা হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর আরো পড়ুন

টুরস এর যুদ্ধ

টুরসের যুদ্ধ স্পেনের মুসলমানদের ইতিহাসে একটি ভাগ্য নির্ধারণকারী যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। এ যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নামের এক কলঙ্ক তিলক। আরো পড়ুন

সাজার-উদ-দার কে?

সাজার-উদ-দার ছিলেন মিশরের মামলুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা। মামলুক শব্দের অর্থ ক্রীতদাস। মহান সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের মহাদুর্দিনে মামলুকরা ইসলামকে আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।