এনফিল্ড রাইফেল কি?

এনফিল্ড রাইফেল

কোম্পনির শাসনামলের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির মধ্যে ১৮৫৭ সালের ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ বা ‘মহাবিদ্রোহ’ অন্যতম। বিভিন্ন কারণে এ ঘটনাটি ইতিহাসে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। এ বিদ্রোহের পরই ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা সরাসরি নিজ হাতে গ্রহণ করে। বঞ্চিত ভারতীয় সৈন্যদের একশ বছরের বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ ছিল এ সিপাহি বিদ্রোহ। কিন্তু ইতিহাস পরিক্রমায় দেখা যায়। সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল বিশেষ ধরনের এক এনফিল্ড রাইফেল।

এনফিল্ড রাইফেলঃ ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল নামের নতুন একটি রাইফেল প্রবর্তন করা হয়। এ বিশেষ ধরনের রাইফেলের কার্তুজ ছিল পশুর চর্বি মিশ্রিত এবং দাঁত দিয়ে কেটে এটি রাইফেলে ঢুকাতে হতো। ১৮৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে সৈনিকদের মধ্যে গুজব রটে যায় যে, হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মনাশ করার জন্য এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুকে গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত করা হয়েছে। অবশ্য পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, সত্যিই ঐ কার্তুজে গরু কিংবা শূকরের চর্বি মিশ্রিত থাকত। যাহোক এই রাইফেলই সূচনা ঘটায় বিখ্যাত সিপাহি বিদ্রোহের। চর্বি মিশ্রিত টোটার খবর প্রচারিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম বহরমপুরে (মুর্শিদাবাদ) বিদ্রোহের সূচনা হয়। এরপর কলকাতার নিকটবর্তী বারাকপুরের সৈন্যরা এ কার্তুক ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে বিদ্রোহ চূড়ান্ত রূপ লাভ করে মঙ্গল পাণ্ডে নামক একজন সৈনিকের মাধ্যমে। ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ তিনি প্রকাশ্য বিদ্রোহী হয়ে উঠেন। একজন ইংরেজ সৈন্যাধ্যক্ষ তাকে বাধা দেওয়ায় পাণ্ডে তাকে আক্রমণ করে আহত করেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এ অবস্থায় সমগ্র রেজিমেন্ট ভেঙে দেন। মঙ্গল পাণ্ডে ও তার সমর্থক জমিদার ঈশ্বর পাণ্ডেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৮৫৭ সালের ২৪ এপ্রিল মিরাটের সেনাছাউনিতে ৯০ সৈনিকের মধ্যে ৮৫ জনই চর্বি মিশ্রিত কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানায়। সামরিক আইনে তাদের বিচার করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৯ মে তাদের সমবেত সেনাবাহিনীর সামনে হাতে পায়ে বেড়ি লাগিয়ে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ১০ মে তাদের সহকর্মীরা বলপূর্বক জেলখানায় প্রবেশ করে তাদের মুক্ত করে। এ ঘটনা সৈনিকদের মনে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ সময় সৈনিকদের বিদ্রোহাত্মক মনোভাব পরিত্যাগের জন্য কর্নেল ফিনিস উপদেশ দিতে গেলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর ঐ দিনই (১০ মে ১৮৫৭) শুরু হয় প্রকৃত অর্থে সিপাহি বিদ্রোহ, যা অল্পদিনের মধ্যেই বাংলাসহ সমগ্র ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে প্রত্যক্ষভাবে উস্কে দিয়েছিল এ এনফিল্ড রাইফেল। আর এ কারণে ভারতবর্ষের ইতিহাসের গতিধারা ১৮৫৭ সালের পর থেকে ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হতে শুরু করে। তাই এনফিল্ড রাইফেল এদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।