এলাহাবাদের সন্ধি কি?

এলাহাবাদের সন্ধি

১৭৬৫ সালে অনুষ্ঠিত এলাহাবাদের সন্ধি, পলাশি ও বক্সারের যুদ্ধোত্তর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে কোম্পানির এ সন্ধি স্থাপিত হয়। এ সন্ধির মধ্য দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় দেওয়ানি লাভ করে। দেওয়ানি লাভ কোম্পানির জন্য ছিল এক বিরাট রাজনৈতিক বিজয়। এলাহাবাদের সন্ধিত রবার্ট ক্লাইভের অসাধরণ বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায়।

এলাহাবাদের প্রথম সন্ধিঃ ক্লাইভ অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সাথে এলাহাবাদের প্রথম সন্ধি আগস্ট, ১৭৬৫ সালে স্থাপন করেন।

১. নবাব সুজাউদ্দৌলাকে তার রাজ্য ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

২. নবাব সুজাউদ্দৌলা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ কোম্পানিকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে স্বীকৃত হন।

৩. নবাব কোম্পানিকে কোরা ও এলাহাবাদ অঞ্চল ছেড়ে দেন।

৪. বেনারসের রাজা বলবন্ত সিংহকে নবাব তার জমিদারি ফিরিয়ে দেন।

৫. অযোধ্যার নবাবের সাথে কোম্পানির একটি সামরিক মিত্রতা স্থাপিত হয়। অযোধ্যার উপর কোনো শত্রুর আক্রমণ হলে (মারাঠা ও আফগান) ইংরেজরা তাকে সাহায্য করবে। তবে এজন্য যে সামরিক ব্যয় হবে তা নবাবকে বহন করতে হবে।

এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধিঃ এলাহাবাদের প্রথম সন্ধির পর ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি (আগস্ট, ১৭৬৫) স্বাক্ষর করেন।

১. কোম্পানি সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের মর্যাদা ও ক্ষমতা স্বীকার করে নেয়।

২. অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোরা ও এলাহাবাদ প্রদেশ কোম্পানি সম্রাটকে ছেড়ে দেয়।

৩. সম্রাট এর বিনিময়ে কোম্পানিকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্বের স্বত্ব স্থায়ীভাবে ছেড়ে দেন।

৪. এজন্য কোম্পানি সম্রাটকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকা দিতে অঙ্গীকার করে এবং বাংলার নবাবকে নিজামতের খরচার দরুন বছরে ৫৩ লক্ষ টাকা দিতে স্বীকৃতি দেয়।

৫. কোম্পানি সম্রাটকে সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

এলাহাবাদের সন্ধি, ইংরেজ প্রভুত্ব স্থাপনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এলাহাবাদের সন্ধির মধ্য দিয়ে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করে এবং এর ফলে একদিকে যেমন কোম্পানির অধিকার আইনত স্বীকৃত হয়, অপরদিকে বাংলার নবাব কোম্পানির উপর অর্থের জন্য সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।