ওহাবি আন্দোলন কি?

ভারতবর্ষের ইতিহাসে ওহাবি আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। উনিশ শতকে সংঘটিত ও আন্দোলন ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নব চেতনার উন্মেষ ঘটায়। এ আন্দোলন ভারতের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছিল। পাটনা ছিল ওহাবিদের মুখ্য প্রচার কেন্দ্র, বাংলা ও বিহার ছিল নিয়োগ কেন্দ্র এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ছিল তাদের কর্মক্ষেত্র। আরবের ওহাবি মতবাদে বিশ্বাসী দিল্লির শাহ ওয়ালিউল্লাহর নেতৃত্বে সূচিত শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় আন্দোলন ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

ওহাবি আন্দোলনঃ খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনকাল শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্রমান্বয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে নানা প্রকার শরিয়ত বিরোধী রীতিনীতি প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এসব ধর্মবিরোধী রীতিনীতি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সমাজজীবনে অনুমোদিত সত্য বলে গৃহীত হয়। তেরো-চৌদ্দ শতকে ইবনে তাইমিয়া এসব ধর্মবিরোধী রীতিনীতির বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম প্রতিবাদ করেন। তিনি শুধুমাত্র কুরআনের বিধি-বিধান মেনে চলার নির্দেশ দান করেন। পরবর্তীকালে আরবের উয়াইনা অঞ্চলের বানু সিনাম বংশের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব ইসলামের রীতিনীতি বিরুদ্ধে আচার-ব্যবহারের প্রতিবাদ করেন। ওহাবি কথাটি মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব এর নাম থেকে এসেছে। তিনি ১৭০৩ সালে আরবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম সমাজের অধোগতি লক্ষ করে প্রকৃত ইসলামের অনুসারী হওয়ার লক্ষ্যে এবং মুসলমান সমাজের পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে এক ধর্মসংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন। তার এ আন্দোলন ইতিহাসে ওহাবি আন্দোলন নামে পরিচিত। এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মুসলিম ওহাবি সম্প্রদায় নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধবাদীরা এ আন্দোলনকে এরূপ নামকরণ করে থাকতে পারে। ভারতবর্ষে শাহ ওয়ালীউল্লাহ ও তার পুত্র শাহ আব্দুল আজিজ, সৈয়দ আহমদ ব্রেলভী প্রমুখ একটি ধর্মসংস্কার আন্দোলন পরিচালনা করেন। তাদের পরিচালিত এ আন্দোলনের সাথে আব্দুল ওহাবের আন্দোলনের সাদৃশ্য থাকায় ভারতবর্ষের এ সংস্কার আন্দোলন দ্রুত ওহাবি আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ভারতীয় উপমহাদেশে ওহাবি আন্দোলন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। উনিশ শতকের প্রথম থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের চাপে এককালের প্রতিপত্তিশালী মুসলমান সম্প্রদায় প্রভাব-প্রতিপত্তি, সরকারি মানমর্যাদা ও সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে প্রায় নি:স্ব হয়ে পড়ে। এর ফলে মুসলমানদের ক্ষোভ, হতাশা ও বিদ্বেষের বহি:প্রকাশ ঘটে অমুসলিম শাসন বিরোধী ওহাবি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।