কাশ্মীরি আন্দোলন সম্পর্কে কি জান?

কাশ্মীরি আন্দোলন সম্পর্কে কি জান?

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা ধর্মের উপর ভিত্তি করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে পাকিস্তান ও হিন্দু এলাকা নিয়ে ভারত গঠন করলেও কাশ্মীরের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয় নি। এজন্য কাশ্মীরিরা স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে থাকেন। মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরে ভারতীয় আধিপত্যের অবসান ঘটানোই কাশ্মীরিদের মূল উদ্দেশ্য। কাশ্মীরি আন্দোলন-এর দুটি ধারা দেখা যায়। এদের একটি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করতে চায় অপরটি চায় স্বাধীন সার্বভৌম কাশ্মীর।

কাশ্মীরি আন্দোলনঃ ‍কাশ্মীরি আন্দোলনের প্রধান দাবি কাশ্মীরবাসীদের স্বাধীনতা। কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে চাওয়ার কতকগুলো কারণ ছিল। নিম্নে কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে চাওয়ার মূল কারণগুলো হলো:

১. ১৯৪৭ সালের পর থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরি মুসলমানদের উপর দখল, নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার, শোষণ, অবহেলা ও বঞ্চনা চালিয়েছে।

২. কাশ্মীরিদের নিজস্ব পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভাষা নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রের সাথে ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এক হয়ে কাজ করছে।

৩. ভারত কাশ্মীরকে সামরিক দখলকৃত অঞ্চল ধরে নিয়ে কাশ্মীরিদের মানবাধিকারকে নিষ্পেষণ করে চলেছে।

৪. সাম্প্রতিককালে সমস্ত পৃথিবীতে মানবাধিকার ও মুক্তিকামী মানুষের প্রতি সমর্থনকে বৃদ্ধি করে কাশ্মীরি জনগণ স্বাধীনতার জন্য অনুকূল পরিবেশ অর্জন করতে সক্ষম হবে।

৫. অখণ্ড ভারতে কাশ্মীরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না। মুসলমানরা কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হওয়া সত্ত্বেও তারা অবহেলিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, শোষিত ও বৈষম্যের শিকার।

কাশ্মীরবাসীর প্রাণের দাবি স্বাধীনতা আজ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কাশ্মীরে ১ লাখ মুসলমান খুন হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। তাছাড়া ধর্ষিত হয় ১০ হাজার নারী ও অগ্নিদদ্ধ হয় প্রায় ১০ হাজার। ভারতীয় সৈন্যদের হামলায় ৬০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। তারা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

কাশ্মীরি আন্দোলনের দাবি ছিল স্বাধীন সার্বভৌম কাশ্মীর। কিন্তু কাশ্মীরি আন্দোলনে ভারত নানাভাবে হস্তক্ষেপ করছে। সেনাবাহিনী দ্বারা তারা বহু মুসলমানকে হত্যা করছে। কাশ্মীরিরা ১২টির বেশি দল নিয়ে APHC গঠন করেছে। অপর দিকে Farrok Abdullah মতো সংগঠন কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিষয়টিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।