কুদরাত-এ-খুদা কে?

আমাদের দেশের যে ক’জন কৃতী সন্তানের জন্য আমরা গর্ব অনুভব করতে পারি বিজ্ঞানী মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদা তাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও দেশপ্রেমিক।

জন্ম ও শিক্ষা জীবনঃ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় ১৯০০ সালে বিজ্ঞানী মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদা জন্মগ্রহণ করেন। তার ছোটবেলা কাটে গ্রামে। তিনি প্রথমে মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভ করেন। তারপর ভর্তি হন ইংরেজি স্কুলে। কুদরাত-এ-খুদা ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ছাত্র। তাই প্রতিটি পরীক্ষাতেই তিনি ডবল প্রমোশন পেতেন। ১৯১৮ সালে তিনি কলকাতায় আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করেন। প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি ১৯২৪ সালে এম. এসসি পাস করেন। তারপর ১৯২৯ সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন ডি. এসসি উপাধি।

গবেষণাঃ লন্ডন থেকে ফিরে এসে তিনি গবেষণার কাজ শুরু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তার গবেষণার জন্য তাকে প্রেমচাঁদ বৃত্তি প্রদান করে। এ বৃত্তি লাভ করা ছিল খুবই সম্মানজনক ব্যাপার ও দুর্লভ জিনিস। দেশের সম্পদকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় এজন্য বিজ্ঞানী কুদরাত-এ-খুদা অনেক গবেষণা করেছেন। পাটখড়ি থেকে আজকাল যে হার্ডবোর্ড, পারটেক্স ও এক রকম ঢেউ টিন তৈরি হচ্ছে তা তারই গবেষণার ফল। দেশীয় গাছগাছড়া ও নানা প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে কিভাবে নানা বস্তু তৈরি করা যায় এজন্য তিনি সারাজীবন গবেষণা করেছেন। তার গবেষণার পথ ধরে এ দেশের বিজ্ঞানীরা এখনো কাজ করছেন।

অধ্যাপনাঃ কুদরাত-এ-খুদা কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার বিশেষ অবদান হলো এই যে বাংলা ভাষায় অনেক বৈজ্ঞানিক বিষয়কে তিনি সহজ সরল করে লিখেছেন। বাংলা ভাষাকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। তাই এ ভাষার চর্চা করেছেন। বাংলাভাষায় তার লেখা প্রায় ২৫ টি গ্রন্থ রয়েছে।

উচ্চপদঃ কুদরাত-এ-খুদা অনেক বড় বড় দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ, পূর্ব পাকিস্তানের জনশিক্ষা পরিচালক, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রথম পরিচালক এবং বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যুঃ এই দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী, নিরলস কর্মী ও প্রখ্যাত গবেষক ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

মুঘল বিচার ব্যবস্থা
মুঘল বিচার ব্যবস্থা

যে কোন রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য। তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘলদের বিচার ব্যবস্থা আরো পড়ুন

বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কেন?

ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পূর্ববাংলার মুসলমানরা তাদের স্বার্থের অনুকূলে ভেবে বঙ্গভঙ্গকে আরো পড়ুন

পাঁচসালা বন্দোবস্ত বলতে কি বুঝ?
পাঁচসালা বন্দোবস্ত

১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করলেও এর প্রকৃত ব্যবস্থাপনা ছিল মোহাম্মদ রেজা খান ও আরো পড়ুন

পাহাড়পুর পরিচিতি

কালের বিচারে বাংলাদেশ একটি সুপ্রাচীন দেশ। প্রাচীনত্বের গরিমায় বাংলা সারাবিশ্বে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ দেশের কৃষ্টি ও আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।