কুব্বাত-আস-সাখরা কি?

কুব্বাত-আস-সাখরা কি

উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ৬৯১ সালে মহানবী (সাঃ)-এর মিরাজ গমনের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত এক খণ্ড পাথরকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমে পবিত্র কাবাগৃহের অনুরূপ একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করেন। ইতিহাসে ইহা Dome of the Rock নামে পরিচিত।

ভূমিপরিকল্পনা ও গঠনঃ কুব্বাত-আস-সাখরা চুনাপাথরে নির্মিত হয়েছিল। এর ভূমি পরিকল্পনা তিন অংশে বিভক্ত ছিল। যেমন ক. অভ্যন্তরের মাঝখানে বৃত্তাকৃতি অংশ খ. বৃত্তাকৃতির চারিপাশে প্রথম অষ্টভুজ বিশিষ্ট পরিবেষ্টিত এলাকা গ. প্রথম অষ্টভুজাকৃতি পরিবেষ্টিত এলাকাকে ঘিরে দ্বিতীয় অষ্টভুজ বিশিষ্ট অংশ।

গম্বুজঃ ড্রাম বা পিপার উপর স্থাপিত কুব্বাত-আস-সাখরার প্রধান আকর্ষণ কাষ্ঠনির্মিত, স্বর্ণমণ্ডিত গোলাকার অপূর্ব সুন্দর গম্বুজ। মুসলিম স্থাপত্যে সর্বপ্রথম কুব্বাত-আস-সাখরায় পরপর দু’টি গম্বুজ নির্মিত হয়েছে। গম্বুজের ব্যাস ৬৮ ফুট। মেঝে থেকে গম্বুজটি প্রায় ১১৬ ফুট উচু এবং গম্বুজটিতে ব্রোঞ্জের যে চূড়া রয়েছে তা চন্দ্র কলার আকৃতিতে নির্মিত।

ছাঁদঃ কুব্বাত-আস-সাখরার বৃত্তাকার বেষ্টনীর ড্রামের উপর গম্বুজ নির্মাণের ফলে আচ্ছাদনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কাষ্ঠ নির্মিত ঢালু করার জন্য ছাদ নির্মাণ করা হয়। ছাদকে মজবুত করার জন্য সীসার পাত লাগানো হয়।

প্রবেশ পথঃ কুব্বাত-আস-সাখরার অষ্টভুজাকৃতি বহিঃপ্রাচীরের প্রধান চারদিকে চারটি প্রবেশ পথ রয়েছে। উত্তর দিকের প্রবেশ পথ বাব আল জান্নাহ, দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথ বাব-আল কিবলা, পশ্চিম দিকের প্রবেশ পথ বাব আল গারীবা এবং পূর্ব দিকের প্রবেশ পথ বাব আল সিলসিলা নামে পরিচিত। এ প্রবেশ পথ ২৯ ফুট প্রশস্ত এবং দেওয়াল থেকে ৯ ফুট সামনের দিকে উদ্গত। কুব্বাতুস সাখরায় একটি মিহরাব রয়েছে। কুব্বাত-আস-সাখরা মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অলঙ্করণ সমৃদ্ধ ইমারত।

বিভিন্ন সময়ে ইহা নির্মাণ হলেও এ ইমারত আজও বিদ্যমান থেকে মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীনতম ইমারত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।