কুসায়ের আমরা

৭১১-৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এর রাজত্বকালে জর্দানের রাজধানী আম্মানের প্রায় পঞ্চাশ মাইল পূর্বে ওয়াদি বাতুম নামক স্থানে কুসায়ের আমরা নির্মিত হয়। কুসায়ের আমরা ছিল উমাইয়া খলিফাদের দ্বারা নির্মিত প্রথম জাগতিক স্থাপত্যের নিদর্শন। কুসায়ের আমরায় সর্বপ্রথম ফ্রেসকোর অলঙ্করণ দেখতে পাওয়া যায়।

আবিষ্কারঃ যদিও সপ্তদশ শতাব্দী হতে বিভিন্ন ভ্রমণ কাহিনীতে কুসায়ের আমরার উল্লেখ পাওয়া যায় তথাপি প্রত্নতত্ত্বের দিক হতে আলোইস মুসিলই এর প্রকৃত আবিষ্কারক। তিনি এর প্রথম সন্ধান পান ১৮৯৮ সালে। ১৯০০ থেকে ১৯০১ সালে মীলিশ নামক একজন চিত্রকর সহ তিনি এ প্রাসাদটি পরিদর্শন করেন।

স্থাপত্যগত বর্ণনাঃ লোহিতাভ চুনাপাথরে নির্মিত কুসায়ের আমরা অন্যান্য উমাইয়া প্রাসাদের তুলনায় মোটামুটি সুরক্ষিত। ইমারতটি দু’টি সংবদ্ধ অংশে বিভক্ত। প্রথম দিকের আয়তাকার অংশটি হলো কক্ষ এবং খলিফার নিজস্ব খাস কক্ষের জন্য নির্মিত, আর পূর্ব দিকের যৌগিক অংশটি অবগাহনের জন্য নির্মিত। অবগাহনটির জন্য কুসায়ের আমরা সাধারণভাবে একটি স্নানাগার হিসেবে সমধিক পরিচিত। হল কক্ষটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ২৪.৫ ফুট এবং পশ্চিমে ২৮ ফুট। উত্তর দেওয়ালের মধ্যাংশে এর প্রবেশ পথ। প্রবেশ পথ বরাবর কক্ষের দক্ষিণে ক্ষুদ্রাকৃতি একটি আয়তাকার খাস প্রকোষ্ঠ রয়েছে।

স্নানাগারঃ হল কক্ষটির পূর্বদিকে একটি প্রবেশ পথ দ্বারা স্নানাগারে প্রবেশ করতে হয়। এ স্নানাগার তিনটি কক্ষ সমন্বয়ে গঠিত। কক্ষের মেঝে হতে ৬.৫ ফুট উর্ধ্বে চতুর্দিকের দেওয়াল সামান্য বক্র হয়ে অভ্যন্তরের দিকে এসেছে এবং বক্রাংশের নিম্নে কক্ষের প্রতিকোণে চারটি করে পাইপ রয়েছে। এ পাইপসমূহ ছাদের উপর হতে অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ কক্ষটির নিম্নাংশেও প্রথম কক্ষটির ন্যায় উষ্ণ বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা ছিল বলে পণ্ডিতগণ একে ঈষদুষ্ণ (tepidarium) স্নানকক্ষ বলে অভিহিত করেছেন।

পানি সরবরাহঃ প্রাসাদটির প্রথমাংশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ হতে একটি দেওয়াল প্রথমে পশ্চিম দিকে, পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং সর্বশেষে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রসারিত হয়ে একটি কূপের সহিত সংযোজিত হয়েছে। এ কূপ হতে পানি পাইপের মাধ্যমে স্নানাগারে নেওয়া হতো।

অলঙ্করণঃ আধুনিক কলা বিশারদগণের নিকট কুসায়ের আমরা এর অলঙ্করণের জন্য সুপরিচিত। কুসায়ের আমরা নির্মাণের মাধ্যমে মুসলিম স্থাপত্যের নব দিগন্তের সূচনা হয়। কুসায়ের আমরা মুসলিম স্থাপত্যে প্রথম মৌলিক নিদর্শন হলেও মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ওয়াজিরাত কি?

মুসলিম প্রশাসনের ইতিহাসে “ওয়াজিরাত” একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান রূপে কাজ করেছে। আব্বাসীয় খলিফাগণ সর্বপ্রথম এ পদটির প্রবর্তন করেন। অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন আরো পড়ুন

ইউরোপের বাতিঘর

প্রথম আবদুর রহমান কর্তৃক স্থাপিত এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা ছিল তৎকালীন যুগের জগতমণি। ম্যুর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র আরো পড়ুন

বাগদাদ নগরী

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস আস-সাফফা আব্বাসীয় শাসন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পরিচালিত করার জন্য আবহাওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক বিবেচনা আরো পড়ুন

মসজিদের অলঙ্করণ

মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে মসজিদের অলঙ্করন রীতি বহু পূর্ব থেকেই প্রচলিত। মসজিদের সৗন্দর্য্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন যুগে নির্মিত মসজিদে বিভিন্ন অলঙ্করন আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।