চাহিদা অপেক্ষক

কোনো দ্রব্যের দাম ও অপরাপর বিষয়গুলোর গাণিতিক নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করেই চাহিদা অপেক্ষক তৈরি করা হয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেনরি সুলজ চাহিদা অপেক্ষক বের করার জন্য পরিসংখ্যানের সাহায্য নেন। দ্রব্যসামগ্রী ভোগের আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষের চাহিদা সৃষ্টি হয়। চাহিদা অপেক্ষককে আয় চাহিদা অপেক্ষক, দাম চাহিদা অপেক্ষক এবং আড়াআড়ি চাহিদা অপেক্ষক এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা- (১) দাম চাহিদা অপেক্ষক (২) আয় চাহিদা অপেক্ষক (৩) আড়াআড়ি চাহিদা অপেক্ষক।

চাহিদা অপেক্ষকঃ চাহিদার উপর অর্থনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল হলো চাহিদা অপেক্ষক গঠন। সতের শতকে ইংরেজ অর্থনীতিবিদ গ্রেগরী কিং (Gregory King) গাণিতিকভাবে চাহিদা অপেক্ষক বের করার চেষ্টা করেন। তিনি পণ্যের দাম ও চাহিদার মধ্যে সংখ্যাবাচক সম্পর্ক তুলে ধরেন। পরবর্তীতে হেনরি সুলজ (Henry Schultz) পরিসংখ্যানের সাহায্যে চাহিদা অপেক্ষক ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তাই অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো দ্রব্যের মূল্য ও অপরাপর বিষয়ের সাথে চাহিদার যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তা-ই চাহিদা অপেক্ষক।

কোনো দ্রব্যের চাহিদা তার মূল্য, পরিবর্তক ও পরিপূরক দ্রব্যাদির দাম, ভোক্তার আয়, রুচি ইত্যাদি বহু উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। আধুনিক অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো দ্রব্যের দাম, ক্রেতার আয়, সম্পর্কযুক্ত অপরাপর দ্রব্যের দাম, রুচি, পছন্দ-এরূপ বিভিন্ন ‍উপাদানের উপর চাহিদার নির্ভরশীলতার সম্পর্কই হচ্ছে চাহিদা অপেক্ষক।   

(১) দাম চাহিদা অপেক্ষক: অন্যান্য অবস্থা স্থির থাকলে পণ্যের দামের সাথে চাহিদার যে কার্য্কর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে দাম চাহিদা অপেক্ষক বলে। এক্ষেত্রে দামের সাথে চাহিদার সম্পর্ক হয় বিপরীতমুখী। অর্থাৎ দাম বাড়লে চাহিদা কমে এবং দাম কমলে চাহিদা বাড়ে।

(২) আয় চাহিদা অপেক্ষক: অন্যান্য অবস্থা স্থির (অপরাপর দ্রব্যের দাম, রুচি, অভ্যাস, পছন্দ, সময় ইত্যাদি) থাকলে ভোক্তার আয়ের পরিবর্তনের সাথে চাহিদার কার্য্কর সম্পর্ককে আয় চাহিদা অপেক্ষক বলে।

(৩) আড়াআড়ি চাহিদা অপেক্ষক: এমন কতিপয় দ্রব্য আছে যেগুলোর দাম পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তক দ্রব্যের চাহিদার পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চা ও কফির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটতে পারে। সুতরাং একটি দ্রব্যের দামের পরিবর্তনের ফলে তার পরিবর্তক অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদার যে পরিবর্তন ঘটে, এরূপ সম্পর্কের গাণিতিক প্রকাশকে আড়াআড়ি চাহিদা অপেক্ষক বলে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, চাহিদার উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহের সাথে গাণিতিক সম্পর্ক প্রকাশের নামই চাহিদা অপেক্ষক। দাম ও আয়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভোক্তার চাহিদা রেখার পরিবর্তন ঘটে। চাহিদা অপেক্ষকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, পণ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী চাহিদা রেখা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।