টুরস এর যুদ্ধ

টুরস এর যুদ্ধ

টুরসের যুদ্ধ স্পেনের মুসলমানদের ইতিহাসে একটি ভাগ্য নির্ধারণকারী যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। এ যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নামের এক কলঙ্ক তিলক। টুরস এর যুদ্ধের ব্যর্থতাই সম্ভবত মুসলমানদের বিশ্ব বিস্তৃতিকে স্থগিত করে দেয়।

টুরস এর যুদ্ধঃ ৭৩২ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম বাহিনী ও খ্রিস্টান বাহিনীর মধ্যে টুরস ও পয়টিয়াসের মধ্যবর্তী স্থানে এক সপ্তাহব্যাপী যে খণ্ডযুদ্ধ চলে তা-ই ইতিহাসে টুরস যুদ্ধ নামে খ্যাত। এই যুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্পেনের উমাইয়া আমির আব্দুর রহমান আল গাফিকি। খ্রিস্টানদের পক্ষে রাজা পেপিনের পুত্র চার্লস নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধে মুসলমান সৈন্যরা পরাজিত হয়।

টুরস খ্রিস্টানদের কাছে অতি পবিত্র নগরী। টুরসে সেন্ট মার্টিনের সমাধি রয়েছে। এই দৃষ্টিতে টুরস হলো গথ জাতির ধর্মীয় রাজধানী। টুরস এর যুদ্ধে চার্লস ম্যাটেলের সুসংবদ্ধ বাহিনী আব্দুর রহমানের বাহিনীর মুখোমুখী হয়। পয়টিয়ার্স এবং টুরস এর মধ্যবর্তী লহর নদীর তীরে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এক সপ্তাহে ব্যাপী যুদ্ধ হয় এবং এতে মুসলিম বাহিনী সাফল্য লাভ করে।

টুরস যুদ্ধের বারোতম দিনে ফ্রান্স বাহিনী প্রচণ্ড আক্রমণ করে। খ্রিস্টান বাহিনী বর্ম পরিহিত অবস্থায় ঢাল ও তরবারিসহ সংঘবদ্ধভাবে অগ্রসর হয় এবং মুসলিম বাহিনীকে ঘিরে ফেলে। মুসলিম অশ্বারোহী বাহিনী অসংলগ্ন ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় যুদ্ধ জয় হতে রণক্ষেত্রে সম্পদ আহরণেই অধিক সচেষ্ট ছিল। আব্দুর রহমান স্বল্প সংখ্যক অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে খ্রিস্টান ব্যুহ আক্রমণ করেন। কিন্তু তার প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পযর্বসিত হয়। মুসলিম বাহিনী শোচনীয় পরাজয় বরণ করে এবং আব্দুর রহমান আল গাফিকি ঐতিহাসিক টুরস যুদ্ধে শাহাদৎ বরণ করেন। অবশিষ্ট মুসলিম বাহিনী রণক্ষেত্র ত্যাগ করে।

টুরস এর যুদ্ধের মাধ্যমেই সমগ্র বিশ্বে মুসলিম সম্প্রসারণ বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপ নিশ্চিত হয় মুসলিম আক্রমণের আতঙ্ক হতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।