তিতুমীরকে বাংলার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলা হয় কেন?কেন?

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে যে কয়জন কীর্তিমান পুরুষের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তাদের মধ্যে তিতুমীর ছিলেন অন্যতম। অসীম সাহসী ও শক্তিধর তিতুমীর অল্প বয়সেই ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং মুসলমানদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণে নিজেকে বিলিয়ে দেন। তিতুমীর সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন সময়ের গতিধারায় তা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে পরিণত হয়।

তিতুমীরকে বাংলার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলার কারণঃ জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে তিতুমীরের আন্দোলন মূলত কৃষক ও দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন হিসেবে পরিগণিত। শোষিত ও বঞ্চিত শ্রেণী মুক্তির আশায় ক্রমাগত তিতুমীরের দলে যোগদান করে জমিদার ও নীল কুঠিয়ালদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। এ পর্যায়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণের কোনো অভিপ্রায় তিতুমীরের ছিল না। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার যখন অত্যাচারী জমিদার ও তাদের দোসর নীল কুঠিয়ালদের পক্ষাবলম্বন করে তিতুমীরকে বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পায়, তখন থেকেই তিতুমীর এদেশ থেকে বিদেশিদের বিতাড়ন তথা ব্রিটিশ প্রভাবমুক্ত স্বাধীন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম শুরু করেন। তিতুমীরের বিদ্রোহ আপাত দৃষ্টিতে ব্যর্থ প্রতীয়মান হলেও চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তার এ সংগ্রামী চেতনা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে সমগ্র বাঙালি সত্তাকে স্পর্শ করেছে। তিনিই ছিলেন প্রথম বাঙালি মুসলমান যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হন নি। তার এ আদর্শ ও আত্মত্যাগের মহান শিক্ষা বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। স্বাধীনতা অর্জনের প্রয়াসে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার লড়াই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তার লড়াইকে সামনে নিয়েই স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা দুর্ধর্ষ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেছে। তার এই সংগ্রামী চেতনা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাতে বাঙালিদেরকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তাই শহীদ তিতুমীরকে বাংলার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলা হয়।

যদিও তিতুমীরের সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তথাপি তা বাংলার শোষিত শ্রেণীকে সর্বপ্রকার শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের অনুপ্রেরণা দান করেছিল, যা পরবর্তীকালে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।