দার-উল-হিকমা কি?

সমকালীন বিশ্বের ইতিহাসে দারুল হিকমা ছিল এক প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা। মিশর জয়ের অব্যবহিত কাল পরেই আল মুইজ চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও অন্যান্য জ্ঞানচর্চার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। আল মুইজের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণীত হয়ে খলিফা হাকাম ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে ‘বায়তুল হিকমাহ” এর অনুকরণে “দারুল হিকমাহ” প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যঃ এ দারুল হিকমাহ্ ছিল সমকালীন শতাব্দীতে এক বিশাল প্রাসাদ। দারুল হিকমাহ্ প্রতিষ্ঠার  প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিয়া মতবাদের বিকাশ সাধন করা। মূলত ফাতেমীয় শাসকগণ ছিলেন সংস্কৃতিমনা। জ্ঞানী-গুণী, বিদ্বান ও প্রতিভাবান ব্যক্তিরা ফাতেমীয় শাসকদের নিকট যথেষ্ট সমাদৃত ছিলেন। ‘দারুল হিকমা’ শিয়া মতবাদের বিকাশের ক্ষেত্র হলেও সাম্রাজ্যে জ্ঞানী, গুণী, পণ্ডিত ব্যক্তি ও সংস্কৃতিমনাদের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়। সঙ্গত কারণে ‘বায়তুল হিকমাহ্’ আর শুধু শিয়াদের মত বিকাশেই ব্যবহৃত হয়নি, বরং ইসলামি জ্ঞানের ভাবধারা বিকাশেই সচেষ্ট ছিল। বায়তুল হিকমা প্রধানত বিজ্ঞান গবেষনা, সাহিত্যচর্চা ও গ্রস্থাগার এই তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল। গ্রন্থাগার ছিল এর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ। এই গ্রন্থাগারে সমকালীন বিশ্বের সর্বাধিক গ্রন্থ সংরক্ষিত ছিল। ‘বায়তুল হিকমা’ শুধুমাত্র রাজপরিবার কিংবা আমির ওমারাহদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল না, সাম্রাজ্যের কবি, সাহিত্যিক, পণ্ডিত ও জ্ঞানী-গুণী এমন কি সর্ব সাধারণের জন্য ইহা উন্মুক্ত ছিল। প্রত্যেক পণ্ডিত, গবেষক এবং সর্বোপরি পাঠকদের প্রয়োজনীয় কাগজ কলম রাজব্যয় হতে সরবরাহ করা হতো। শিয়া মতবাদের বিকাশ ও প্রচারের জন্য দারুল হিকমাহ্ নির্মিত হলেও পরবর্তীতে তা আর সংকীর্ণতার বন্ধনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কবিতা, আইন শাস্ত্র ব্যাকরণ, সমালোচনা, আয়ুর্বেদ, জ্যোতির্বিদ্যা, শব্দ বিজ্ঞান প্রভৃতির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দারুল হিকমায় দেয়া হতো।

কাজেই বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিল্পকলা ‍ও সাহিত্যের অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য দারুল হিকমা ইতিহাসের এক উন্মুক্ত পাঠশালা হিসেবে পরিগণিত।

ধর্মান্ধ আন্দোলন বলতে কি বুঝ?

স্পেনে উমাইয়া আমির দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের সুদীর্ঘ রাজত্বকালে গোঁড়া বা ধর্মান্ধ খ্রিস্টানগণ ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করতে থাকে। আরো পড়ুন

ফকিহ বিদ্রোহ কি?

৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে পিতা প্রথম হিশামের মৃত্যুর পর তার পুত্র প্রথম হাকাম ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণ করেই আরো পড়ুন

মামলুক বংশ
মামলুক বংশ বা দাস বংশ কি এবং কি এদের পরিচয়

জগতের অতি অল্প রাজ বংশই মিশরের মামলুক সুলতানদের ন্যায় খ্যাতি লাভে সমর্থ হয়েছে। মামলুকগণ মিশরে প্রায় তিনশত বৎসর রাজত্ব করেন। আরো পড়ুন

আল-আজিজ কে?

খলিফা আল মুইজের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য পুত্র নিসার আল মনসুর “আল আজিজ বিল্লাহ” উপাধি গ্রহণ করে ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।