ফকিহ বিদ্রোহ কি?

৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে পিতা প্রথম হিশামের মৃত্যুর পর তার পুত্র প্রথম হাকাম ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণ করেই তাকে নানা বিদ্রোহ ও শত্রুতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো ফকিহ বা ধর্মবেত্তাদের বিদ্রোহ।

ফকিহদের প্রভাবঃ আমির হিশাম ফকিহদেরকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা ‍দিয়ে রাজ্য শাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে তাদের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করতেন। তাই ফকিহগণ রাজ্য শাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে আমিরের উপর অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করেন। কিন্তু আমির হাকাম ফকিহদের ক্ষমতা হ্রাস করেন এবং রাজ্য শাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে তাদের মতামত উপেক্ষা করে চলতে থাকেন। কাজেই ফকিহদের দৃষ্টিতে নতুন আমীরের কার্যকলাপ ধর্মীয় অনুশাসন বহির্ভূত বলে বিবেচিত হতো। সুরাসক্ত, সংগীত প্রিয়, বিলাস ও প্রমোদবিহারী হাকামকে ফকিহগণ কোন ক্রমেই সহ্য করতে পারছিলেন না। তারা আমিরের অনৈসলামিক কার্যকলাপ জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করে তার সম্বন্ধে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি করতে থাকেন। এ সময়ে ফকিহগণ নওমুসলিমদের দাবি-দাওয়া নিয়েও সোচ্চার হয়ে ওঠেন। দরবারের এক শ্রেণীর অমাত্যবর্গও ফকিহদের সমর্থনে সাড়া দেন। ফলে ফকিহদের শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

ফকিহদের ষড়যন্ত্রঃ ফকিহগণ মুহাম্মদ বিন কাশিম নামক এক ব্যক্তিকে আমির করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় দুজন অমাত্যসহ ৭২ জন ফকিহ ও অন্যান্য বিশিষ্ট নেতাকে হত্যা করা হয়। ফকিহ শ্রেষ্ঠ ইয়াহয়া-বিন-ইয়াহয়া ও ঈসা-বিন-দিনার কোন ক্রমে টলেডোতে পলায়ন করে জীবন রক্ষা করেন। এভাবে হাকাম ফকিহদের প্রাথমিক বিদ্রোহ দমন করেন। ফকিহগণ কোন প্রকারেই আমিরকে ন্যায়সঙ্গত ও শাস্ত্র অনুমোদিত ভাবে স্বীকার করতে পারছিলেন না। যার দরুন তারা ভিতরে ভিতরে নিজেদের সংগঠিত করতে থাকে। ফকিহগণ ও জনসাধারণ উত্তেজিত হয়ে একযোগে এক সময় আমিরের প্রসাদ আক্রমন করে। বিক্ষুদ্ধ জনগণ আমিরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। আমির এ বিস্ফোরণমূলক পরিস্থিতি নির্মম ভাবে মোকাবেলা করেন। ৩৬ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিসহ ৩০০ জনকে ফাঁসি দেয়া হয় এবং ৮০০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ফকিহদের প্রধান ইয়াহয়া প্রাণে রক্ষা পেলেও গোঁড়া ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অসংখ্য লোককে বিতাড়িত করা হয়। এভাবে ফকিহ বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

আমির হাকামের সময় ফকিহ সম্প্রদায় দারুণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। কিন্তু খলিফাও নির্মমভাবে তা দমন করেন।

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ কি?

আইন-ই-জালুতের যুদ্ধ পৃথিবীর ভাগ্য নিয়ামক যুদ্ধগুলোর অন্যতম। ১২৬০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আইন-ই-জালুত প্রান্তরে মোঙ্গল বাহিনী ও কুতুবের বাহিনী পরস্পরের সম্মুখীন আরো পড়ুন

কুরাইশদের বাজপাখী বলা হয় কেন?

স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠা আবদুর রহমান আদ-দাখিলকে ‘কুরাইশদের বাজপাখী’ (Falcon of the Quraish) বলা হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর আরো পড়ুন

টুরস এর যুদ্ধ

টুরসের যুদ্ধ স্পেনের মুসলমানদের ইতিহাসে একটি ভাগ্য নির্ধারণকারী যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। এ যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নামের এক কলঙ্ক তিলক। আরো পড়ুন

সাজার-উদ-দার কে?

সাজার-উদ-দার ছিলেন মিশরের মামলুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা। মামলুক শব্দের অর্থ ক্রীতদাস। মহান সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের মহাদুর্দিনে মামলুকরা ইসলামকে আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।