বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কেন?

ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পূর্ববাংলার মুসলমানরা তাদের স্বার্থের অনুকূলে ভেবে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। কিন্তু হিন্দুরা কোনোভাবে বঙ্গভঙ্গকে মেনে নেয়নি। তারা সবসময় এর বিরোধিতা করে এসেছে। হিন্দুদের চাপের মুখে শেষ পর্য্ন্ত ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।

বঙ্গভঙ্গ রদের কারণঃ একটি স্থায়ীব্যবস্থা হিসেবে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করা হলেও মাত্র ছয় বছরের মাথায় ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তা রদ করা হয়।

১. কংগ্রেস ও হিন্দুদের উগ্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলনঃ বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় কায়েমি স্বার্থবাদী হিন্দুরা স্বাভাবিকভাবে তা গ্রহণ করতে পারে নি। ফলে কংগ্রেসের হিন্দু নেতৃবৃন্দ বাঙালিদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি এবং বঙ্গভঙ্গকে ‘বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ’ বলে উল্লেখ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।

২. স্বদেশী আন্দোলনঃ বঙ্গভঙ্গের পূ্র্বেই স্বদেশী আন্দোলনের আদর্শ গড়ে উঠলেও বঙ্গভঙ্গের পর থেকে কংগ্রেস ও হিন্দু নেতৃবর্গ এর আদর্শকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার শুরু করে। প্রধানত ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের মাধ্যমে এ আন্দোলন চাঙ্গা হয়ে উঠে এবং সাংস্কৃতিক জীবনেও তার প্রবেশ লক্ষ করা যায়। এমনকি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও স্বদেশীমূলক গান যেমন- ‘আমার সোনার বাংলা’ প্রভৃতি রচনা করে আন্দোলনকে বেগবান করে তোলার প্রয়াস পান।  

৩. বুদ্ধিজীবীদের বিরোধিতাঃ সমকালীন বুদ্ধিজীবীদের প্রধান অংশই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়ে ব্রিটিশ সরকারের মনোবলকে দুর্বল করে দিয়েছিল।

৪. কলকাতাকেন্দ্রিক জমিদার ও ব্যবসায়ী শ্রেণীর বিরোধিতাঃ বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দু জমিদার শ্রেণী যেমন পূর্ববাংলায় তাদের জমিদারি হারায়, তেমনি চট্টগ্রামে নতুন বন্দর চালু হওয়ায় কলকাতাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী শ্রেণীর একচেটিয়া বাণিজ্যিক আধিপত্য ক্ষুণ্ন হয়। তাছাড়া সংবাদপত্র ব্যবসায়ী ও আইন ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা চিন্তা করে বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করতে শুরু করে।

৫. সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনঃ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন বিভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়ে শেষ পযর্ন্ত সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। ব্রিটিশ বিরোধী হিংসাত্মক কাযর্ক্রমের অংশ হিসেবে শুরু হয় গুপ্তহত্যা। ফলে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে।

ব্রিটিশ সরকার স্বীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য প্রশাসনিক সুবিধার নামে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কাযর্কর করলেও বিভিন্নমুখী বিরোধিতার কারণে শেষ পযর্ন্ত তা রদ করতে বাধ্য হন। যা স্বার্থবাদী হিন্দুদের নিকট ইতিবাচক হলেও মুসলমানদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।

মুঘল বিচার ব্যবস্থা
মুঘল বিচার ব্যবস্থা

যে কোন রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য। তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘলদের বিচার ব্যবস্থা আরো পড়ুন

পাঁচসালা বন্দোবস্ত বলতে কি বুঝ?
পাঁচসালা বন্দোবস্ত

১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করলেও এর প্রকৃত ব্যবস্থাপনা ছিল মোহাম্মদ রেজা খান ও আরো পড়ুন

পাহাড়পুর পরিচিতি

কালের বিচারে বাংলাদেশ একটি সুপ্রাচীন দেশ। প্রাচীনত্বের গরিমায় বাংলা সারাবিশ্বে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ দেশের কৃষ্টি ও আরো পড়ুন

কাজী নজরুল ইসলাম-এর পরিচয়

বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব অনেকটা ধূমকেতুর মতো। তিনি বাংলা সাহিত্যে এ যুগান্তর এনেছিলেন। তার বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।