বাঁশের কেল্লা কি?

বাঁশের কেল্লা

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে বাঙালি কীর্তিমান পুরুষ তিতুমীর ছিলেন এক উদীয়মান নক্ষত্র। ধমীয় ‍ও আধ্যাত্মিক চেতনায় মুসলমানদেরকে উজ্জীবিতকরণ, অত্যাচারী জমিদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে শোষিত ও নির্যাতিত কৃষক-প্রজাদের সুসংগঠিতকরণ এবং বিদেশি ইংরেজ শক্তির উচ্ছেদের জন্য জনগণকে দুর্বার আন্দোলনে অবতীর্ণকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে তিতুমীর বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অবদান রাখতে সক্ষম হন। আর এ আন্দোলন করতে গিয়ে নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লার যুদ্ধে ১৮৩১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন।

বাঁশের কেল্লাঃ ইংরেজ শক্তিকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে তিতুমীর ১৮৩১ সালে কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে এক বিপ্লবী কেন্দ্র শিবিরের গোড়াপত্তন করেন এবং এর চতুর্দিকে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন যা ইতিহাস বিখ্যাত ‘তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা’ নামে পরিচিত। এই কেল্লা তিনি প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করেন। কৃষক-প্রজাদের নিয়ে প্রচলিত ও সনাতন অস্ত্রে সজ্জিত এই বাহিনীকে সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এই বিরাট বাহিনী স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে তিতুমীরের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা স্থাপন করে। ইংরেজ সরকার তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার সন্ধান পেয়ে তিতুমীরকে দমন করতে উদ্যত হন। তদানীন্তন বড়লাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক তিতুমীরকে দমন করার জন্য ১৮৩১ সালে ১৭ নভেম্বর লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে বিরাট এক সামরিক বাহিনী প্রেরণ করেন। নদীয়া ও গোবরডাঙার জমিদাররাও তাদের পাইক বরকন্দাজদের একত্র করে ইংরেজ বাহিনীর সাথে মিলিত হয়। অবশেষে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ইংরেজদের আধুনিক মারণাস্ত্র ও গোলার আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। কিন্তু আত্মসমর্পণ বা পলায়নের চেয়ে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ শ্রেয়তর মনে করে তিতুমীর ও তার ৪০ জন অনুসারী সম্মুখ সমরে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে শহীদ হন। দেশের জন্য তিতুমীরের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে তাকে স্থায়ী আসন দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।