বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

জাতীয় পতাকা দেশ ও জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক। পৃথিবীর প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশেরই নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে। ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সেই গৌরবদীপ্ত স্বাধীনতার প্রতীক। আর সে পতাকা হচ্ছে, সারা বিশ্বের কাছে আমাদের জাতীয় প্রতীক রূপে পরিচিত।

পরিচিতিঃ পতাকাটি আয়তাকার ও দুটি বর্ণে রঞ্জিত। ঘন সবুজের মাঝে একটি লাল বৃত্ত। এটি সাধারণত দশ ফুট লম্বা হবে এবং ছয় ফুট প্রস্থ হবে। অর্থাৎ এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হবে ৫:৩। এ অনুপাত ঠিক রেখে ছোট বড়ো বিভিন্ন আকারের পতাকা তৈরি করা যায়। পতাকার মাঝখানের লাল বৃত্তটির ব্যাসার্থ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

গুরুত্বঃ আমাদের সোনার বাংলার যে দিকে তাকানো যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এর মাঠে মাঠে সবুজ ধান, সবুজ পাট, এর বন-বাদাড়ে সবুজ গাছ-গাছালিতে পরিপূর্ণ, তাছাড়া সবুজ রং যৌবনের প্রতীক। বিগত মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সবুজেরাই হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে দেশটাকে স্বাধীন করেছে। তাই আমাদের জাতীয় পতাকায় গাঢ় সবুজ রং স্থান পেয়েছে। এই গাঢ় সবুজ রঙের মধ্যে আছে একটা গোলাকার গাঢ় লাল রঙের সূর্য্য। নতুন জাতির প্রতীক সে লাল সূর্য্য। এতদ্ব্যতীত বর্তমান বিশ্বের বৈপ্লবিক চেতনাকে রূপ দেবার জন্য লাল রং ব্যবহৃত হয়। সেই সব দিক চিন্তা করেই আমাদের জাতীয় পতাকায় গাঢ় সবুজের মধ্যে লাল রঙের গোলাকার সূর্যকে স্থান দেয়া হয়েছে।

পতাকা তৈরির নিয়মঃ পতাকার প্রস্থকে সমান দুভাগে ভাগ করতে হবে এবং প্রত্যেক ভাগকে একটি করে ইউনিট ধরতে হবে। পতাকার দৈর্ঘ্যের ডান দিকে সাড়ে পাঁচ ইউনিট এবং বাম দিকে সাড়ে চার ইউনিট রেখে একটি লম্ব টানতে হবে এবং প্রস্থকে সমান দুভাগে ভাগ করে সমান্তরাল সরলরেখা টানতে হবে। এ দু’রেখা যে স্থানে মিলিত হবে সেটাই হবে পতাকার লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু।

ব্যবহারঃ আমাদের জাতীয় পতাকা আমাদের জন্য বয়ে আনে ঐক্য, শান্তি, সজীবতা, স্বাধীনতা, পূর্ণতা ও সম্ভাবনার বাণী। জাতীয় পতাকা আমাদের আশা-আকাঙ্খা, আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির চেতনা দিয়েছে। আমাদের আদর্শ-সাম্য ও প্রীতি এবং লক্ষ্য-শান্তি। জাতীয় পতাকা সে শান্তিকে বয়ে আনে। জাতীয় পতাকার জন্য আমরা গৌরব অনুভব করি। তাই জাতীয় পতাকা সমুন্নত রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এ পতাকার পবিত্রতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তার জন্য সরকার কতগুলো নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। সাধারণত সংসদ ভবন, বড় সরকারি অফিস, আদালত প্রভৃতি ভবনের উপরে এটি নিয়মিত উড়নো হয়।

রাষ্ট্রপতি, সরকারের মন্ত্রী এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তি ছাড়া লোকের গাড়িতে এ পতাকা ব্যবহার করতে পারে না। জাতীয় পতাকার ডানে এবং এর চেয়ে উঁচুতে কোনো পতাকা ওড়ানো চলবেনা। স্কুল-কলেজে পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। মুক্ত আকাশের নিচে জাতীয় পতাকা যখন পত পত করে উড়তে থাকে, তখন তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় ত্যাগের কথা, পরিশ্রমের কথা, শান্তির কথা অগ্রগতির কথা। বুকের প্রতিটি রক্ত বিন্দু দিয়েও এ পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কতর্ব্য।

মুঘল বিচার ব্যবস্থা
মুঘল বিচার ব্যবস্থা

যে কোন রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য। তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘলদের বিচার ব্যবস্থা আরো পড়ুন

বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কেন?

ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পূর্ববাংলার মুসলমানরা তাদের স্বার্থের অনুকূলে ভেবে বঙ্গভঙ্গকে আরো পড়ুন

পাঁচসালা বন্দোবস্ত বলতে কি বুঝ?
পাঁচসালা বন্দোবস্ত

১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করলেও এর প্রকৃত ব্যবস্থাপনা ছিল মোহাম্মদ রেজা খান ও আরো পড়ুন

পাহাড়পুর পরিচিতি

কালের বিচারে বাংলাদেশ একটি সুপ্রাচীন দেশ। প্রাচীনত্বের গরিমায় বাংলা সারাবিশ্বে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ দেশের কৃষ্টি ও আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।