বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল হতাশাব্যঞ্জক ও বিতর্কিত। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মুক্তিযু্দ্ধের পুরো ৯ মাস পাকিস্তান ঘেঁষা নীতি গ্রহণ করেন। তারা এ সময় পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন যুগিয়েছিল। তবে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী মহল, প্রচারমাধ্যম, জনগণ, আমলা প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল।

মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমেরিকার মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভ থেকেই নিক্সন সরকার ইয়াহিয়ার সামরিক সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক ঘৃণ্য কার্যকলাপকে সমর্থন জানিয়ে আসছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যখন বাংলাদেশের বিজয় সুনিশ্চিত তখন যুক্তরাষ্ট্র ‘পাকিস্তান বনাম ভারত-বাংলাদেশ’ যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করে। এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের গতিবেগকে স্তিমিত করে পাকবাহিনীকে পুনরায় অস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার সুযোগ প্রদান করা। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অভিমুখে সপ্তম নৌবহরও প্রেরণ করেছিল। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পযর্ন্ত এ নৌবহর প্রেরণ বন্ধ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের উদারপন্থি নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সোচ্চার ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার মাধ্যমের একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে দ্বিধাহীনভাবে প্রচার চালিয়েছিল। ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশী জনগণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক শ্রেণী এত বিপুল পরিমাণ সাহায্য-সামগ্রী পাঠিয়েছিল যে, তার তুলনা কোনো রাষ্ট্রের সাথে চলে না। এসব কারণে নিক্সন সরকার বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের পর অনতিবিলম্বে স্বীকৃতি দেয় ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে এগিয়ে আসে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতি পুরোপুরি বাংলাদেশ বিরোধী ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতি ছিল মূলত নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটির নীতি। তারা সর্বতোভাবে পাকিস্তান ঘেঁষা নীতি অবলম্বন করে। তথাপিও সে দেশের সরকার ব্যতীত জনগণ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থিত হয়। যার কারণে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি বিশাল অংকের সাহায্য পেয়েছিল।

তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার সংগ্রাম
তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার সংগ্রাম

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে বাঙালি কীর্তিমান পুরুষ তিতুমীর ছিলেন এক উদীয়মান নক্ষত্র। ধর্মীয় ও আরো পড়ুন

তিতুমীরকে বাংলার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলা হয় কেন?

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে যে কয়জন কীর্তিমান পুরুষের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তাদের মধ্যে তিতুমীর ছিলেন অন্যতম। অসীম সাহসী ও আরো পড়ুন

দেওয়ানি বলতে কি বুঝায়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে কোম্পানি তথা ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে আরো পড়ুন

নবাব সলিমুল্লাহর পরিচয়
নবাব সলিমুল্লাহর পরিচয়

বাংলার রাজনীতিতে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ এক অনবদ্য ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের সামগ্রিক উন্নয়নে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অনস্বীকার্য্য। আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।