বাগদাদ নগরী

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস আস-সাফফা আব্বাসীয় শাসন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পরিচালিত করার জন্য আবহাওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক বিবেচনা করে তাইগ্রীস নদীর পশ্চিম তীরে একটি রাজধানী শহর নির্মাণ করেন। বাগদাদ নামক গ্রামে ইহা নির্মাণ করায় উক্ত নগরী বাগদাদ নামেই পরিচিত।

নির্মাণ কালঃ আরব ঐতিহাসিকদের বর্ণনানুসারে আল মনসুর ৭৬২ সালে বাগদাদ নগরীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং সিরিয়া, ইরাক ও পশ্চিমে পারস্যের প্রকৌশলীদের দ্বারা ৭৬৬ সালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন এক লক্ষ লোকের অবিরাম পরিশ্রমে ৪০ লক্ষ দিরহাম ব্যয়ে এ নগরীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

বিভিন্ন নামঃ প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় ‘মদিনাত-আল-মনসুর’। তবে এর সরকারি নাম ছিল ‘মদিনাত-আস-সালাম’। বৃত্তাকার আকৃতির কারণে অনেক ঐতিহাসিক একে ‘মদিনা আল মুদাওয়ারা’ নামেও অভিহিত করেছিলেন।

নির্মান উপকরণঃ রোদে শুকনো ইট, আগুনে পুড়ানো ইট, নল খাগরা, লোহা, সীসা ও সামান্য পাথরে উহা নির্মাণ করা হয়।

আয়তনঃ চতুর্দিকে পরিখা বেষ্টিত বৃত্তাকার বাগদাদ নগরীর বহিঃ প্রাচীরের পরিধি ছিল ১৬,০০০ হাত।

তোরণ নির্মাণঃ বাগদাদ নগরীর বৃত্তাকৃতি বহিঃদেয়ালের চারদিকে চারটি তোরণ নির্মিত হয়েছিল। বাগদাদ নগরীর বক্রদ্বার নির্মাণ মুসলিম স্থাপত্যে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের ‍সূচনা করেছিল।

অলংঙ্করণঃ বাগদাদ নগরীতে রাহাবা নির্মাণের দৃষ্টান্ত ছিল লক্ষণীয়। বাগদাদ নগরীতে ফাসিলের ব্যবহার হয়েছিল। ‘তাকাত’ নির্মাণ ছিল বাগদাদ নগরীর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। বাগদাদ নগরীতে পারসিক পদ্ধতিতে স্তম্ভ সারির উপর সরাসরি ছাদ স্থাপন করা হয়েছিল।

স্থপতিঃ হাজ্জাজ ইবনে আরতাত, রাবাহ, বিশর ইবনে মাইমুন প্রমুখ স্থপতিগণ বাগদাদ নগরীর বিভিন্ন অংশ নির্মাণ করেন। বাগদাদ নগরীতে আল মনসুর ইমারত ছাড়াও প্রাসাদ ও মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদ, আল মুতাদিদ এর পুননির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন।

বৃত্তাকার বাগদাদ নগরী একটি বিখ্যাত স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসাবে মুসলিম স্থাপত্যে পরিগণিত হয়েছে।

ওয়াজিরাত কি?

মুসলিম প্রশাসনের ইতিহাসে “ওয়াজিরাত” একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান রূপে কাজ করেছে। আব্বাসীয় খলিফাগণ সর্বপ্রথম এ পদটির প্রবর্তন করেন। অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন আরো পড়ুন

ইউরোপের বাতিঘর

প্রথম আবদুর রহমান কর্তৃক স্থাপিত এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা ছিল তৎকালীন যুগের জগতমণি। ম্যুর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র আরো পড়ুন

কুসায়ের আমরা

৭১১-৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এর রাজত্বকালে জর্দানের রাজধানী আম্মানের প্রায় পঞ্চাশ মাইল পূর্বে ওয়াদি বাতুম নামক স্থানে কুসায়ের আরো পড়ুন

মসজিদের অলঙ্করণ

মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে মসজিদের অলঙ্করন রীতি বহু পূর্ব থেকেই প্রচলিত। মসজিদের সৗন্দর্য্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন যুগে নির্মিত মসজিদে বিভিন্ন অলঙ্করন আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।