বাঙালি জাতীয়তাবাদ কাকে বলে?

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি দুর্বার শক্তি। এ শক্তি ও চেতনায় বলীয়ান হয়ে বাঙালিরা তাদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অরতীর্ণ হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার লাল-সবুজ খচিত জাতীয় পতাকা। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এ জাতীয়তাবাদ হঠাৎ আত্মপ্রকাশ করা কোনো চেতনা নয়। বাংলা ভাষার প্রতি অন্যায় আক্রমণ ও এ ভাষার অনুসারীদের প্রতি দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদঃ জাতীয়তাবাদ একটি মানসিক ধারণা। তাই এটি প্রধানত অনুভুতিমূলক। জাতীয়তার প্রকৃত ভিত্তি ঐক্যের একটি সক্রিয় অনুভূতি এবং একতার তীব্র প্রেরণা। অধ্যাপক লাস্কির মতানুসারে, জাতীয়তাবাদ হলো একটি জাতির লোকদের মধ্যে এমন একটি বিশেষ ঐক্য যা তাদেরকে মানব জাতির অন্য সকল দল থেকে পৃথক করে। জাতীয়তাবাদের সাধারণ এ ধারণা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাঙালিদের নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও মাতৃভাষা বাংলার ভিত্তিতে তাদের যে পরিচয় তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালিরা যুগ যুগ ধরে সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, চিন্তা, চেতনা, সমৃদ্ধি এবং স্বাতন্ত্র্যবোধই বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণা যুগিয়েছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করেছে।

বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সাদৃশ্যের মাধ্যমে যে ঐক্যানুভূতি গড়ে উঠেছে তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ একদিনে গড়ে উঠে নি; বরং তা বিভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন শক্তিকর্তৃক শোষিত-বঞ্চিত হওয়া থেকে উদ্বুদ্ধ-উদ্ভূত ক্ষোভেরই ফলশ্রুতি। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পরিপুষ্ট করেছে। আর এটাই পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করেছে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।