বেঙ্গল প্যাক্ট কি?

বাংলা তথা ভারতের হিন্দু-মুসলমানদের সমস্যা সমাধান ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল বেঙ্গল প্যাক্ট। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের মধ্য দিয়ে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের যে অবনতি ঘটে ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তির মাধ্যমে তা অনেকটা পুনরুদ্ধার করা হয়। কিন্তু যুগপৎ খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে আকস্মিকভাবে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় খিলাফত আন্দোলন দুর্বল হলে মুসলিম নেতৃবৃন্দ আশাহত হয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের ভাঙনের ফলে নব সৃষ্ট স্বরাজ দল হিন্দু-মুসলিম মিলনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে এবং এক্ষেত্রে মুসলিম নেতৃবৃন্দের আগ্রহের ফলেই ১৯২৩ সালে বেঙ্গল প্যাক্ট নামক চুক্তি সম্পাদিত হয়।

বেঙ্গল প্যাক্টঃ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ বাংলার হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে যে দূরত্বের সৃষ্টি করেছিল তা ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথে অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছিল। উদারপন্থি নেতা চিত্তরঞ্জন দাস কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে স্বরাজ পার্টি গঠন করে বাংলার হিন্দু-মুসলিম সমস্যার সমাধান ও উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠার জন্য সচেষ্ট হন। ব্রিটিশ বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে বাংলার উদারপন্থি ও জনপ্রিয় নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, আব্দুল করিম, সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ বাংলার রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য ১৯২৩ সালে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তা বাংলার ইতিহাসে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ বা ‘বাংলার চুক্তি’ নামে পরিচিত। বেঙ্গল প্যাক্ট ছিল অখণ্ড ভারতের হিন্দু-মুসলিম মিলনের সর্বশেষ উদ্যোগ। এ চুক্তির মাধ্যমে চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার মুসলমানদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মেনে নেন। কিন্তু উগ্র হিন্দুরা এর বিরোধীতা করে। ফলে ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এ চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।