মসজিদের অলঙ্করণ

মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে মসজিদের অলঙ্করন রীতি বহু পূর্ব থেকেই প্রচলিত। মসজিদের সৗন্দর্য্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন যুগে নির্মিত মসজিদে বিভিন্ন অলঙ্করন দ্বারা সুশোভিত করা হত।

অলঙ্করণের বর্ণনাঃ মসজিদের স্থাপত্যিক অলঙ্করণ বলতে মসজিদ ইমারতের সাজসজ্জা কে বুঝায় যা বিভিন্নরকম হতে পারে। যেমন- মোজাইক, ফ্রেস্কো, মিনাকরা টালী, ষ্টাকো, টেরাকোটা, ইত্যাদি। মুসলিম সমাজে মসজিদের অলঙ্করণ পদ্ধতি অতীব মনোরম এবং জমকালো। যেমন- ঐতিহাসিক মুকাদ্দেসী দামিস্ক জামে মসজিদের অলঙ্করণের কথা বলতে গিয়ে একে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সুন্দর মুসলিম ইমারত বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এ মসজিদের মোজাইক চিত্র বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট বৃক্ষরাজি, লতাপাতা, স্থাপত্যের নিদর্শন জ্যাতিক নকশা এবং আরবি লিপির এক অপূর্ব সমন্বয় হয়েছে। এছাড়া মসজিদ অলঙ্করণের ক্ষেত্রে অন্যান্য মসজিদের ন্যায় দেখা যায় যে, মেঝে এবং প্রাচীর গাত্র বা দেয়ালে মর্মর পাথরের ব্যবহার রয়েছে। দেয়ালে বা মেঝে মোজাইকের ব্যবহারও লক্ষণীয় এবং এ মোজাইকসজ্জা স্থান বিশেষে বিভিন্ন নকশা সম্বলিত হয়ে থাকে।

মসজিদ অলঙ্করণে জুল্লাহকেও সুশোভিত করা হয়। জুল্লাহর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে মর্মর প্যানেল দ্বারা আবৃত করা হয়। এ ছাড়া জুল্লাহর উপরাংশে বিখ্যাত ফার্মা বা সোনালি আঙুর ও অ্যাকান্থাস লতার মোজাইক দেখা যায়। ফার্মার উপরিভাগ রঙিন মোজাইকে সজ্জিত থাকে। এ সজ্জা বৃক্ষ, অট্টালিকা এবং লিপিকলা সমন্বয়ে গঠিত থাকা। জুল্লাহর স্তম্ভসমূহ সোনালি রং দ্বারা রঞ্জনের দৃশ্যও চোখে পড়ে।

কোন কোন মসজিদে দেওয়ালের শীর্ষেও মোজাইক ছিল। ট্রানসেপ্টের বহির্ভাগও মোজাইক নকশা আবৃত থাকে। জানালাগুলো পলেস্তারা নির্মিত এবং জ্যামিতিক নকশা সম্বলিত থাকে। মসজিদের সাহনের তিনদিকও মোজাইক অলঙ্করণে সুসজ্জিত করা হয়। মসজিদ অলঙ্করণে রিওয়াকও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। খিলানের গর্ভে অ্যাকান্থাস পত্র বা প্রাচুর্য্য শৃঙ্গ হতে উত্থিত অ্যাকান্থাস বা কাল্পনিক বল্লবী দেখা যায়। দু’খিলানের মধ্যবর্তী ত্রিকোণাকার অংশে বিভিন্ন ফলের বৃক্ষ, কাল্পণিক অ্যাকান্থাস লতা বা বিভিন্ন অট্টালিকা চিত্র এবং দেওয়ালে প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত বিভিন্ন  বাটি বা নগরের দৃশ্য দেখা যায়।

রিওয়াকের দেয়ালে কোন কোন মসজিদ অলঙ্করণে বারাদা প্যানেল দেখা যায়। মসজিদের বায়তুল মালের প্রকোষ্ঠও রঙিন মোজাইকে অলঙ্কৃত করা হয়। এ সব মোজাইকে অ্যাকান্থাস লতা, প্রবাহমান নদী, স্থাপত্য নকশা, ফল, সুশোভিত খেজুর বৃক্ষ শোভা পেত। এ সব মোজাইকে নীল, সবুজ ও সোনালি রঙের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

মুসলিম স্থাপত্যে বিশেষ করে মসজিদের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য প্রতিকৃতি বর্জিত অলঙ্করন করা হয়।

ওয়াজিরাত কি?

মুসলিম প্রশাসনের ইতিহাসে “ওয়াজিরাত” একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান রূপে কাজ করেছে। আব্বাসীয় খলিফাগণ সর্বপ্রথম এ পদটির প্রবর্তন করেন। অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন আরো পড়ুন

ইউরোপের বাতিঘর

প্রথম আবদুর রহমান কর্তৃক স্থাপিত এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা ছিল তৎকালীন যুগের জগতমণি। ম্যুর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র আরো পড়ুন

বাগদাদ নগরী

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস আস-সাফফা আব্বাসীয় শাসন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পরিচালিত করার জন্য আবহাওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক বিবেচনা আরো পড়ুন

কুসায়ের আমরা

৭১১-৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এর রাজত্বকালে জর্দানের রাজধানী আম্মানের প্রায় পঞ্চাশ মাইল পূর্বে ওয়াদি বাতুম নামক স্থানে কুসায়ের আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।