মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)

মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় তখন পরম করুণাময় আল্লাহ মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য পৃথিবীতে তার বার্তাবাহক প্রেরণ করেন। এ বার্তাবাহক হলেন নবী বা রাসূল। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সত্য ও কল্যানের শেষ বার্তাবাহক মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা) তেমনি আল্লাহর বার্তা নিয়েই পৃথিবীতে এসেছিলেন মানুষের কল্যাণের জন্য, মানবজাতির মুক্তির জন্য।

তার আবির্ভাবের সময় আরবের অবস্থাঃ মহানবী যখন আরবভূমিতে আল্লাহর অশেষ করুণা নিয়ে আবির্ভূত হন তখন আরবের অবস্থা ছিল বড়ই শোচনীয়। আরবের প্রতিটি গোত্রে গোত্রে ছিল যেমন কলহ ও বিবাদ-বিসম্বাদ তেমনি তারা নানা অনাচারে লিপ্ত ছিল। আরববাসীরা ছিল মূর্তিপূজক ও নান কুসংস্কার এবং অন্ধ বিশ্বাসে আবদ্ধ। এমনকি তারা নিজেদের কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। ইতিহাসে আরবের এ সময়কে বলা হয় ‘বর্বরতার যুগ’ বা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’।

জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ও বিশ্ববাসীর জন্য আলোকবর্তিকাবাহী মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীর প্রখ্যাত কুরাইশ বংশে। তার জন্মের দিন ছিল আরবি রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখ। তার পিতার নাম আবদুল্লাহ ও মাতার নাম আমিনা। জন্মের পাঁচমাস পূর্বে তার পিতা এবং জন্মের পাঁচ বছর পর তার মাতা ইন্তেকাল করেন। পিতামহ আবদুল মোত্তালিব বালক মুহম্মদকে লালনপালন করেন। পিতামহের ইন্তেকালের পর তার চাচা আবু তালিব তাকে লালনপালন করেন।

বাল্যজীবনঃ এতিম অবস্থার মধ্যে মহানবীর বাল্যকাল শুরু হয়। তবে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও সত্যবাদী। তার এ সত্যবাদিতার জন্য বাল্যকালেই তিনি উপাধি পান ‘আল-আমীন’। বাল্যকাল উত্তীর্ণ হয়ে কৈশোরে তিনি চাচার সঙ্গে ব্যবসায়ের কাজে সঙ্গী হিসেবে সিরিয়া ভ্রমণ করেন।

নবুওয়াত প্রকাশঃ শৈশব থেকেই মহানবী ছিলেন ভাবুক ও চিন্তাশীল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্রমে ক্রমে আল্লাহর সাধনায় অধিক নিমগ্ন হয়ে পড়েন। চল্লিশ বছর বয়সকালে মক্কা নগরীর কাছে হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহর সাধনায় মগ্ন থাকাকালে তিনি নবুওয়াত প্রকাশ করেন। এরপর তিনি আল্লাহর নির্দেশে ইসলামের বাণী প্রচার করতে থাকেন- ‘আল্লাহ এক, তিনি ছাড়া আর কেউ উপাস্য নেই এবং মুহম্মদ (সা) তার প্রেরিত রাসুল

ধর্মপ্রচারঃ হযরত মুহম্মদ (সা) যখন সত্যধর্ম প্রচার করতে শুরু করেন মক্কার লোকেরা তাকে নানাভাবে বাধা দেয় ও নির্যাতন শুরু করে। এমনকি তার প্রাণ বিনাশের হুমকিও দেয়। তার প্রচারিত ইসলাম ধর্মে প্রথম বিশ্বাস স্থাপন করেন হযরত খাদিজা (রা) ও পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা)। মক্কাবাসীদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে তিনি প্রিয় সাহাবি হযরত আবু বকরকে (রা) সঙ্গে নিয়ে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনাবাসীরা তাকে পরম সম্মান ও আদরের সঙ্গে গ্রহণ করেন। এখান থেকেই ইসলাম ধর্মের প্রসার লাভ শুরু হয়। ক্রমে ক্রমে সারা পৃথিবীতে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে পড়ে।

চরিত্রঃ হযরত মুহম্মদ (সা) ছিলেন মানবশ্রেষ্ঠ। মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলির বিকাশ ঘটেছিল তার জীবনে। তিনি ছিলেন সত্যের প্রচারক, সমাজ সংস্কারক, একজন বীর যোদ্ধা। জীবনে এমন কাজ তিনি করেন নি যা অন্যের জন্য আদর্শ নয়। এমন উপদেশ কাউকে দেন নি যা তিনি নিজে অনুসরণ করেন নি। তিনি শিশুদের খুব ভালোবাসতেন নারীকে সম্মান করতেন। তিনি ছিলেন খুব দয়ালু, স্নেহবৎসল ও কোমল হৃদয়সম্পন্ন।

ইন্তেকালঃ মহানবী পৃথিবীর মানুষকে দেখাতে এসেছিলেন সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথ, সরল সহজ মুক্তির পথ। তিনি এ কাজ সমাধা করেছিলেন তার তেষট্টি বছরের স্বল্প পরিসর জীবনে। পরিশেষে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা) আল্লাহর সন্নিধানে গমন করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।