মাযেনা বলতে কি বুঝ?

মাযেনা মসজিদ স্থাপত্যের একটি বিশেষ অঙ্গ। মহানবীর মদিনা মসজিদে এর বর্তমান রূপ না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় এর কাজ সেরে নেয়া হতো। তবে ইসলামের প্রথম শতকেই মাযেনা মসজিদ স্থাপত্যের প্রয়োজনীয় অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

মাযেনার ব্যবহারিক ও পারিভাষিক অর্থঃ মাযেনা বলতে মসজিদের মিনারকে বুঝানো হয়। মাযেনা শব্দটি মিশর ও সিরীয় সাহিত্যে ও প্রাচীনলিপিতে প্রায়শ দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে যার অর্থ করা হয়েছে “আজানের জায়গা” হিসেবে।

মাযেনার উৎপত্তির ইতিহাসঃ ইবনে আল কাকীহ্ এবং অন্যদের মতে, উমাইয়াদের মসজিদে মিনার এজন্য সংযুক্ত হয় যে, উহা সিরিয়ার বাইজান্টাইন গির্জার পূর্ব থেকেই মওজুদ ছিল। De Vogue- এর মতে, ৪র্থ এবং ৫ম শতাব্দীতে সিরিয়ার গির্জা ‍ও বৃহৎ বেসরকারি অট্টালিকায় টাওয়ারের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। টাওয়ার দেখতে মিনারের অনুরূপ ছিল। এতে মনে হয়, সিরিয়ায় মিনার স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষের সাথে সাথে ইহা মসজিদেরও অংশ হয়ে গিয়েছিল। এভাবে মাযেনা প্রবর্তনের অল্পকাল পরেই এটা মুয়াজ্জিনের দাঁড়াবার জায়গারূপে ব্যবহৃত হতে থাকে। যা হোক, মাযেনায় ওঠে আজান দেওয়ার প্রথাটি সঙ্গে সঙ্গেই প্রচলিত হয়নি। এর প্রচলন ঘটে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে।

মহানবী (সাঃ) আমলে মাযেনাঃ ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সাঃ) কর্তৃক নির্মিত মদিনা মসজিদে কোন মাযেনা বা মিনার ছিল না। মহানবী (সাঃ) মুয়াজ্জিন বিল্লালকে পার্শ্ববর্তী কোন উঁচু স্থান থেকে আজান দিতে নির্দেশ দেন।

মসজিদ স্থাপত্যে প্রথম মাযেনাঃ ৬৩৫ সালে উৎবা ইবনে গাযওয়ান কর্তৃক নির্মিত বসরা মসজিদে সর্বপ্রথম মিনার বা মাযেনার প্রচলন হয় বলে বালাযুরী উল্লেখ করেন। এটি নির্মাণ করেন বসরার গভর্নর যিয়াদ ৬৬৫ সালে, যখন তিনি বসরা মসজিদটি পুননির্মাণ করেন। তবে কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, বসরা মসজিদে নয় বরং আমর বিন আল আস কর্তৃক নির্মিত মিশরের ফুসতাত মসজিদেই সর্বপ্রথম মিনার সংযোজন করা হয়েছিল।

মাযেনার ক্রমবিকাশঃ বসরা বা ফুসতাত এই দুই মসজিদের যে মসজিদ থেকেই মাযেনা প্রথম আত্মপ্রকাশ করুক না কেন পরবর্তীকালের সকল মসজিদেই এটা মসজিদ স্থাপত্যের অতি প্রয়োজনীয় স্থাপত্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাযেনা বা মিনার বাইজানটাইন গির্জার উঁচু টাওয়ার থেকেই মসজিদ স্থাপত্যে অনু্প্রবেশ করেছে। যে উৎস থেকেই আসুক না কেন মুসলিম সমাজে মিনারের গুরুত্ব অপরিসীম।

ওয়াজিরাত কি?

মুসলিম প্রশাসনের ইতিহাসে “ওয়াজিরাত” একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান রূপে কাজ করেছে। আব্বাসীয় খলিফাগণ সর্বপ্রথম এ পদটির প্রবর্তন করেন। অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন আরো পড়ুন

ইউরোপের বাতিঘর

প্রথম আবদুর রহমান কর্তৃক স্থাপিত এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা ছিল তৎকালীন যুগের জগতমণি। ম্যুর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র আরো পড়ুন

বাগদাদ নগরী

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস আস-সাফফা আব্বাসীয় শাসন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পরিচালিত করার জন্য আবহাওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক বিবেচনা আরো পড়ুন

কুসায়ের আমরা

৭১১-৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এর রাজত্বকালে জর্দানের রাজধানী আম্মানের প্রায় পঞ্চাশ মাইল পূর্বে ওয়াদি বাতুম নামক স্থানে কুসায়ের আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।