মারজ-ই-দাবিক যুদ্ধ?

মারজ-ই-দাবিক

মারজ-ই-দাবিকের যুদ্ধ ছিল ইসলামের ইতিহাসের চরম যুগান্তকারী ঘটনা। ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে মিশরের সর্বশেষ সুলতান কানসুয়া আল গৌরীর সাথে তুরস্কের অটোমান সুলতান প্রথম সেলিমের যে সংঘর্ষ হয় তাকেই মারজ-ই-দাবিকের যুদ্ধ বলা হয়। ইহা শুধুমাত্র একটি যুদ্ধ হলেও এর দ্বারা মিশরের মামলুক শাসনের উচ্ছেদ এবং ইসলামের পরবর্তী ইতিহাসের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।

যুদ্ধের ঘটনাঃ মধ্য এশিয়ায় মোঙ্গল শক্তির অভ্যুদয়ের কালে রাজনৈতিক কারণে মিশরের মামলুক ও তুরস্কের অটোমানদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠলেও এই সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়িত্ব লাভ করতে পারেনি। মামলুক সুলতান কায়েতবাই এর সঙ্গে অটোমান সুলতান ২য় বায়েজীদের দু’বার যুদ্ধের ফলে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটতে শুরু করে এবং অবশেষে সুলতান সেলিমের সময়ে ইহা চরম আকার ধারণ করে যুদ্ধের রূপ নেয়। অবশেষে ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে মামলুক ও অটোমানদের মধ্যে মারজ-দাবিক প্রান্তরে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মামলুকগণ বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে। কিন্তু সেনাপতি কায়েদ-এর ষড়যন্ত্রের ফলে পরাজিত হয়। মামলুক সুলতান গুরী পলায়নের সময় ঘোড়ার পৃষ্ঠ হতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অটোমানগণ আলেম্পা, দামেস্ক, বৈরতু অধিকার করে সমগ্র সিরিয়া তাদের হস্তগত করেন।

এই যুদ্ধের ফলে দীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী মিশরের মামলুক সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।