মিনার বলতে কি বুঝ?

মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল স্থান দখল করে আছে মিনার। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহা বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত।

মিনার কিঃ মসজিদের অভ্যন্তরে বা মসজিদ সংলগ্ন বিশেষ ধারায় নির্মিত যে উচুঁ স্থান থেকে নামাজের সময় মুসল্লীদের ডাকার জন্যে আযান দেয়া হয় তাকে মিনার বলে। ইতিহাসে এর কয়েকটি নাম আছে। যেমন-মানার, মিনার, সাওয়ামী এবং মিযানা।

প্রকারভেদঃ মিনার বিভিন্ন প্রকারে নির্মিত হয়। মুসলিম স্থাপত্যে সাধারনত চৌকোনাকৃতি, অষ্টভূজ, গোলাকৃতি ও পেঁচযুক্ত মিনার নির্মিত হতে দেখা যায়।

মিনার নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ মহানবী (সাঃ) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হিজরত করে সেখানে একটি মসজিদ স্থাপন করেন। এ মসজিদের নামই মদিনা মসজিদ। ইসলামের এ প্রাথমিক মসজিদ নির্মাণকালে কোন মিনার স্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীকালে হযরত (সাঃ) এর নিদের্শে একটি উঁচু স্থান থেকে আজান দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ উঁচু স্থান হল সর্বপ্রথম মিনার।

মদিনা মসজিদে মিনারঃ নামাজ আদায়ের প্রাথমিক সময়ে মুসুল্লিরা আজান ছাড়াই নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর হযরত ওমর (রাঃ)-এর পরামর্শক্রমে মহানবী (সাঃ) হযরত বেলালকে মসজিদ সংলগ্ন উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে আজনা দিতে বলেন, এ উঁচু স্থানকে প্রথমে মিযানা ও পরে একে মিনার বলা হতো।

পরবর্তীকালে হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের সময় মদিনা মসজিদ সংস্কার করা হয় এবং এ সময় মসজিদের চারকোণে চারটি মিনার নির্মাণ করেন। বর্গাকার এ মীনারগুলোর প্রস্থ ছিল ৮ হাত এবং উচ্চতা ছিল ৫০ হাত।

পরবর্তীকালে অন্যান্য মসজিদে মিনার নির্মাণঃ মসজিদ আল আকসায় মিনার নির্মাণ করেন হযরত ওমর (রাঃ)। তবে এ মিনার খুব বেশি উঁচু ছিল না। পরবর্তীকালে খলিফা আব্দুল মালিক আল ওয়ালিদের সংস্কারের সময় সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করা হয়। এছাড়া খলিফা মুয়াবিয়ার নির্দেশে ফুস্তাত মসজিদে সুদৃশ্য মিনার নির্মাণ করেন মাসালামা। দামেস্ক মসজিদে খলিফা আল ওয়ালিদ সুদৃশ্য মিনার নির্মাণ করেন। এ মিনার ছিল প্রাচীন দেব মন্দিরের টাওয়ার এর অংশ বিশেষ।

সর্বাপেক্ষা ব্যয়বহুল ও আকর্ষণীয় মিনারঃ ইসলামের প্রাথমিক মসজিদগুলোর মধ্যে সামাররা মসজিদে সমকালীন সময়ে সর্বাপেক্ষা ব্যয়বহুল ও সুদৃশ্য আকর্ষণীয় মিনার নির্মাণ করা হয়। এ মিনারের চতুর্দিকে ছিল প্যাঁচ বিশেষ। এক মানারা অল মালাবিয়া বলা হতো।

মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে মিনার নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আধুনিককালের সুদৃশ্য, চৌকস ও সুউচ্চ মিনারগুলো ইসলামের প্রাথমিক মিনার স্থাপত্যের উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে। উল্লেখ্য যে আধুনিককালের সকল মসজিদেই মিনার রয়েছে।

ওয়াজিরাত কি?

মুসলিম প্রশাসনের ইতিহাসে “ওয়াজিরাত” একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান রূপে কাজ করেছে। আব্বাসীয় খলিফাগণ সর্বপ্রথম এ পদটির প্রবর্তন করেন। অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন আরো পড়ুন

ইউরোপের বাতিঘর

প্রথম আবদুর রহমান কর্তৃক স্থাপিত এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা ছিল তৎকালীন যুগের জগতমণি। ম্যুর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র আরো পড়ুন

বাগদাদ নগরী

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস আস-সাফফা আব্বাসীয় শাসন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পরিচালিত করার জন্য আবহাওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক বিবেচনা আরো পড়ুন

কুসায়ের আমরা

৭১১-৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এর রাজত্বকালে জর্দানের রাজধানী আম্মানের প্রায় পঞ্চাশ মাইল পূর্বে ওয়াদি বাতুম নামক স্থানে কুসায়ের আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।