মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা

মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল তৎকালীন এক পরাক্রমশালী পরাশক্তি। রাশিয়ার সমর্থন ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গতি পায় ও ক্রমান্বয়ে সাফল্যের দিকে অগ্রসর হয়। প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে মস্কো স্বয়ং যথার্থভাবে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে। মূলত মুক্তিসংগ্রামে নিয়োজিত বাংলাদেশের জনগণের নৈতিক ও বস্তুগত উপাদান সহকারে সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে তাদের স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে।

মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকাঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত রাশিয়ার অবদান ছিল সর্বাধিক। ভারতের পরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সোভিয়েত রাশিয়া স্মরণযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে পাকবাহিনী যখন নির্বিচারে গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণের মতো নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত তখন সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খানকে এ জঘন্য কাজ থেকে নিবৃত্ত হবার জন্য পত্রযোগে অনুরোধ জানান। তিনি নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরেরও অনুরোধ জানান। সোভিয়েত জনগণের সহানুভূতি ও সোভিয়েত পত্র-পত্রিকায় ও প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশের খবর বিশ্বে জনমত সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সোভিয়েত রাশিয়ার সমর্থনেই ভারত বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতা ও সমর্থনের ব্যাপকতা অনেক বেশি বৃদ্ধি করে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে পাকিস্তান বনাম ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত রাশিয়ার ভেটো প্রদানের ফলে তা অকাযর্কর হয়। সোভিয়েত রাশিয়া কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরো জোরদার করে তোলে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সোভিয়েত রাশিয়া ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের ও অর্থ এবং অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের বিধ্বস্ত যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সোভিয়েত রাশিয়া প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে।

মস্কো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষ পর্যায় ব্যতীত কখনোই খোলাখুলি সমর্থন জানায় নি। তারা চেয়েছিল পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে এ সংকটের রাজনৈতিক সমাধান। পাকিস্তানের সমালোচনা করলেও মস্কো কখনই দেশটির বিরোধিতা করে নি। তবে তাদের মধ্যে ‍দোদুল্যমানতা থাকলেও তারা গণহত্যার বিরুদ্ধে ও বাঙালির ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে ছিল।

তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার সংগ্রাম

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে বাঙালি কীর্তিমান পুরুষ তিতুমীর ছিলেন এক উদীয়মান নক্ষত্র। ধর্মীয় ও আরো পড়ুন

তিতুমীরকে বাংলার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বলা হয় কেন?

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে যে কয়জন কীর্তিমান পুরুষের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তাদের মধ্যে তিতুমীর ছিলেন অন্যতম। অসীম সাহসী ও আরো পড়ুন

দেওয়ানি বলতে কি বুঝায়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে কোম্পানি তথা ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে আরো পড়ুন

নবাব সলিমুল্লাহর পরিচয়
নবাব সলিমুল্লাহর পরিচয়

বাংলার রাজনীতিতে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ এক অনবদ্য ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের সামগ্রিক উন্নয়নে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অনস্বীকার্য্য। আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।