রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্ব

প্রখ্যাত ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডো উনিশ শতকের গোড়ার দিকে খাজনা সম্পর্কে যে তত্ত্ব প্রদান করেন সেটি তার নামানুসারে রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্ব নামে পরিচিত। এ তত্ত্বে তিনি খাজনার অর্থ, উৎপত্তির কারণ এবং এর পরিমাণ সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেন।

রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বঃ রিকার্ডোর মতে, “খাজনা হলো জমির ফসলের সে অংশ যা জমির মৌলিক ও অবিনশ্বর ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য জমির মালিককে দেওয়া হয়।” জমির ফলন এর উর্বরা শক্তির উপর নির্ভর করে। ফলে যে জমির উর্বরা শক্তি যত বেশি সে জমির খাজনা তত বেশি।

অনুমিত শর্তাবলিঃ রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বটি নিম্নলিখিত অনুমিত শর্তাবলির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিতঃ

(১) প্রকৃতিগত দিক থেকে জমির যোগান সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ জমির যোগান রেখা সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক।

(২) জমির ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি প্রযোজ্য হয়।

(৩) খাজনা হলো জমির মৌলিক ও অবিনশ্বর ক্ষমতার প্রতিদান।

(৪) ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব কার্য্কর।

৫) জমি প্রকৃতি প্রদত্ত জিনিস বলে এর কোনো যোগান দাম নেই। তাই খাজনা উৎপাদন ব্যয় তথা দামের অন্তর্ভূক্ত হয় না।

উল্লিখিত অনুমিত শর্তাবলির উপর ভিত্তি করে ডেভিড রিকার্ডো তার খাজনা তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, খাজনা হলো জমির মৌলিক ও অবিনশ্বর ক্ষমতার প্রতিদান। জমির মৌলিক ও অবিনশ্বর ক্ষমতা বলতে তিনি জমির উর্বরা শক্তিকে বুঝিয়েছেন। তার মতে, জমির উর্বরা শক্তি অবিনশ্বর; যা বছরের পর বছর চাষাবাদেও নষ্ট হয় না। জমির এ উর্বরা শক্তি ব্যবহারের বিনিমিয় দামই হলো খাজনা। তবে তার অভিমত হলো, সকল জমির উর্বরা শক্তি সমান নয়; উর্বরার দিক দিয়ে কোনো জমি উৎকৃষ্ট আবার কোনো জমি নিকৃষ্ট। ফলে উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট ভেদে জমির খাজনার পরিমাণের পার্থক্য হয়ে থাকে। সুতরাং বিভিন্ন প্রকার জমির উর্বরা শক্তির পার্থক্যের জন্য জমির খাজনার উদ্ভব হয়। তাই রিকার্ডো খাজনাকে উৎপাদকের উদ্বৃত্ত (Producer`s surplus) বা পার্থক্যমূলক আয় নামে অভিহিত করেছেন।

ডেভিড রিকার্ডো তার খাজনা তত্ত্বটি জমির উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী বিন্যাস করে বর্ণনা করলেও বাস্তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ তার এ তত্ত্বকে কল্পনা প্রসূত অবাস্তব ও অপূর্ণাঙ্গ খাজনা তত্ত্ব বলে অভিহিত করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।