শারীরিক শিক্ষা কি? শারীরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা?

শারীরিক শিক্ষা

সাধারণভাবে শরীর সম্পর্কীয় শিক্ষাই শারীরিক শিক্ষা। তবে যে শিক্ষার দ্বারা শরীরের বিভিন্ন দি- যেমন এর সুষম বৃদ্ধি, উন্নতি ও সংরক্ষণ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করা যায় এবং সামাজিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করা যায়, তাই শারীরিক শিক্ষা। শারীরিক শিক্ষা ছাড়া সাধারণ শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকে অর্থাৎ শারীরিক শিক্ষা সাধারণ শিক্ষার পরিপূরক। খেলাধুলা ও শরীর চর্চার মাধ্যমে উল্লিখিত দৈহিক ও মানসিক গুণাবলি লাভ করতে পারলে সেটা হবে শারীরিক শিক্ষার ফল বা অবদান।

শারীরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাঃ

১. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উন্নতিঃ- নিয়মিত সঠিকভাবে অঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ও ক্রিয়া পদ্ধতির উন্নতি হয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। বিভিন্ন খেলাধুলা, দৌড়, লাফ, নিক্ষেপ প্রভৃতি কর্মকান্ড অঙ্গ সঞ্চালনক্রিয়ার সহায়তা করে। এতে মনে যেরূপ আনন্দ আসে সেরূপ শরীরের যথেষ্ট ব্যায়াম হয়। তাই শিশু ও কিশেঅরদের জন্য খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষা খুব প্রয়োজন।

২. স্নায়ু মাংসপেশির সমন্বয়ঃ- শৈশবে দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রূত বেড়ে ওঠে। শরীর বৃদ্ধি পেলেও অনেক সময় তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানসিক বিকাশ সাধন হয় নাম ফলে স্নায়ু ও মাংসপেশির সাথে স্নায়ুর সমন্নয় ঘটে না। এগুলো যথাযাথভাবে কাজ করার জন্য সঠিক অঙ্গ সঞ্চালন ও খেলাধুলার প্রয়োজন। 

৩. পাঠের একঘেয়েমী দূরঃ- শ্রেণীকক্ষে একটানা লেখাপড়ায় রত থাকলে পাঠে একঘেয়েমী আসে। লেখাপড়ার সাথে নিয়মিত কিছুক্ষণ খেলাধুলা থাকলে তাতে শ্রেণীকক্ষে পাঠের একঘেয়েমী দূর এবং মনে সজীবতা ফিরে আসে ও পড়াশুনার মন বসে।

৪. সামাজিক গুণাবলি অর্জনঃ- দলের সদস্য হয়ে, একসাথে খেলে, আইন মেনে চলে, শিক্ষক বা নেতার নির্দেশ পালন করে, নেতৃত্ব দিয়ে বা হার-জিতে মেজাজ ঠিক রেখে ছেলে মেয়েরা দলীয় একতা ও শৃঙ্খলাবোধ বজায় রাখতে, আইন অনুসরণ করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত হতে এবং অন্যান্য সামাজিক গুণাবলি অর্জন করতে শিখে। তাই এ সকল চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের জন্য শারীরিক শিক্ষার দরকার।

৫। পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্লেষণ ও বিচার ক্ষমতার বিকাশ ও উন্নতি সাধনঃ- ছেলে মেয়েরা খেলাধুলার অংশ নিয়ে ক্রমান্বয়ে আইন-কানুন জানতে এবঙ বিভিন্ন কলাকৌশল বিশ্লেষণ করে তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে। তাছাড়া কোনটা ন্যায় ও কোনটা অন্যায় তা যাচাই করতে শিখে। তাই ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সাথে সাথে চিন্তা ও বোধশক্তি বিকাশ ও উন্নয়ন এবং আদর্শ নাগরিক রূপে গড়ে ওঠার জন্য সাধারণ শিক্ষার সাথে শারীরিক শিক্ষার সমন্বয় থাকা বাঝ্ছনীয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।