সমবায় কৃষি খামার

গ্রামীণ সমবায় সমিতির মাধ্যমে সমবায় খামার ব্যবস্থা গড়ে উঠে। সমবায় কৃষি খামার গড়ে উঠলে দেশের কৃষির উন্নয়ন ঘটে। আর সমবায় কৃষি খামারে ভূমি মালিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ঘটে। এ খামারে আধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগের দ্বারা বাণিজ্যিক খামারের দিকে পরিচালিত করা সম্ভব হয়। কিন্তু সমবায় খামারে ধনী-দরিদ্র সব শ্রেণীর কৃষকের অংশগ্রহণ ঘটে বলে দুর্বল কৃষকরা সবল ভূস্বামী ও নেতাদের দ্বারা প্রতারিত হতে পারে।

সমবায় কৃষি খামারঃ সমবায় কৃষি খামার কোনো নির্দিষ্ট সমবায় সমিতির মাধ্যমেই গড়ে উঠে। যখন কোনো এলাকার ভূমি মালিকরা একত্রিত হয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে স্বেচ্ছায় ভূমি একত্রীকরণের মাধ্যমে সম্মিলিত চাষাবাদ প্রক্রিয়া শুরু করে তখন তাকে সমবায় কৃষি খামার বলে। সমবায় কৃষি খামার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সমবায় সংগঠন যাবতীয় ঝুঁকি বহন করে থাকে। সমবায় কৃষি খামারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অধ্যাপক সেলিগম্যান বলেন, “উৎপাদন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা এড়ানোর পাশাপাশি সব ধরনের মধ্যবর্তী কর্তৃত্বের বিলোপ সাধনের লক্ষ্যে যে সংগঠন গড়ে তোলা হয় তাকে সমবায় খামার বলে।”

বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় সমবায় কৃষি খামারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব পাওয়া গেলে এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলে এ সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশগুলোতে সমবায় কৃষি খামারগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।