সামরিক শাসন কাকে বলে?

সামরিক শাসন

রাজনৈতিক অঙ্গনে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের ইতিহাস সুপ্রাচীন। সময় ও অবস্থার সঙ্গে এর প্রকৃতিতে ভিন্নতা বিদ্যমান। তবে বিশ শতকেতে স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপকতা দৃশ্যমান হয়। বহুবিধ সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন বিরাজ করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি; তখনই নানা অজুহাতে বেসামরিক সরকারকে বন্দুকের নলের সাহায্যে সরিয়ে দিয়ে সামরিক বাহিনী শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

সামরিক শাসনের সংজ্ঞাঃ সাধারণ অর্থে দেশের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা করাকেই বলা হয়ে থাকে সামরিক শাসন। অন্যভাবে বলা যায়, দেশের সশস্ত্র সামরিক বেসামরিক প্রশাসনকে বিতাড়িত করে নিজেরাই যখন রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব দখল করে তখন তাকে সামরিক শাসন বলে। সামরিক শাসনামলে রাষ্ট্র সামরিক আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। বন্দুকের নলই তাদের ক্ষমতার উৎস।

এস. ই. ফাইনার (S.E.Finer)-বলেন, ‘‘যে শাসনব্যবস্থায় অসামরিক কর্তৃপক্ষের জায়গায় সামরিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং এরই মাধ্যমে বেসামরিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটিয়ে সামরিক কর্তৃত্বের শাসন কায়েম হয় তাকে সামরিক শাসন বলে।”

জে. সি. জোহারি (J.C.Johari)-এর মতে, ‘‘ যখন বেসামরিক পরিবেশ থাকে না এবং সামরিক নেতাগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ভোগ করেন, তখন তাকে সামরিক শাসন বলে।”

জে. আই. জনসন (J. I. Hohnson)-এর মতে, ‘‘সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার পর আপাতদৃষ্টিতে অনুশীলনযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা হলো সামরিক শাসন।”

সামরিক শাসন হলো সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার উচ্চাভিলাষের ফলবিশেষ। যখন কোনো সামরিক জান্তা বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে শাসনভার গ্রহণ করে এবং সংবিধানকে স্থগিত ঘোষণা করে ও বিভিন্ন সামরিক আইন জারির মাধ্যমে শাসনকার্যে পরিচালনা করে তখন তাকে সামরিক শাসন বলে।

সমবায় আন্দোলন

পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন সাধনে সমবায়ের ভূমিকা অপরিসীম। সমবায়ের মূলমন্ত্র হলো ‘সকলের তরে সকলে মোরা প্রত্যেকে আমরা পরের আরো পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।