সূর্যাস্ত আইন কি?

১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নয়ালিস গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হয়ে ভারতবর্ষে আসেন। লর্ড কর্নওয়ালিসের সংস্কার কার্যাদির মধ্যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অন্যতম। সূর্যাস্ত আইন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটা অংশ। লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন এবং পরবর্তীতে ডাইরেক্টর সভার অনুমোদনক্রমে এটা ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলে ঘোষিত হয়।

সূর্যাস্ত আইনঃ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিভিন্ন রীতির মধ্যে একটি রীতি ছিল নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব জমা দিতে ব্যর্থ হলে জমিদার তার জমিদারি হারাবেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের এ রীতিই সূর্যাস্ত আই (Sun Set Law) নামে পরিচিত।

সূর্যাস্ত আইনের ফলে এক নতুন জমিদার শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। কেননা নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে অনেক পুরাতন জমিদারই জমিদারি হারায়। নতুন জমিদার শ্রেণী কোম্পানির সমর্থক শ্রেণীতে পরিণত হয়। এ জমিদার শ্রেণী এদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় থেকে ব্রিটিশ শক্তিকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।

নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব দিতে না পারায় বঙ্গের অনেক প্রাচীন জমিদার পরিবার তাদের জমিদারি হারায়। রাজস্বের হার বেশি হওয়ায় সময়মতো রাজস্ব দেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। সূর্যাস্ত আইনের ফলে মাত্র ২২ বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মজিদার তাদের মজিদারি হারায়। কেবল সে সমস্ত জমিদারিই টিকে থাকতে সক্ষম হয় যারা সামন্ত প্রথার অনুকরণে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা দেওয়ার শর্তে তালুকদার, ইজারাদার প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্রেণীকে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছিল।

সূর্যাস্ত আইন ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সবচেয়ে খারাপ দিক। খ্যাতনামা ইতিহাস সাহিত্য রচয়িতা উইলিয়াম হান্টার সূর্যাস্ত আইনের কুফল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, “গত পঁচাত্তর বছরের মধ্যে বাংলার মুসলমান পরিবারগুলোর অস্তিত্ব হয় পৃথিবীর বুক থেকে মুছে গেছে, নয়তো ইংরেজদের সৃষ্ট নতুন ধনিক সমাজের নিচে এ সময় ঢাকা পড়ে রয়েছে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।