হিত্তিনের যুদ্ধ

হিত্তিনের যুদ্ধ

সুলতান সালাহউদ্দিনের অন্যতম কৃতিত্ব ছিল হিত্তিনের যুদ্ধে ক্রুসেডারদের পরাজিত করে জেরুজালেম মুসলমানদের অধীনে আনয়ন করা।

হিত্তিনের যুদ্ধঃ রেজিন্যান্ড মিশরের শান্তিপূর্ণ বাণিজ্য বহরের উপর দ্বিতীয়বার আক্রমণ চালালে তৃতীয় ক্রুসেডের সূত্রপাত হয়। উক্ত ক্রুসেড ১১৮৭-১১৯২ সাল পযর্ন্ত চলে। ১১৮৭ সালের ১ জুলাই সালাহউদ্দীন টাইবেরিয়াস দখল করেন। ৩ বা ৪ জুলাই টাইবেরিয়াস বা হিত্তিনের যে চূড়ান্ত মীমাংসাত্মক যুদ্ধ বাধে তাতে প্রায় ১০,০০০ খ্রিস্টান সৈন্য নিহত হয় এবং ২০,০০০ খ্রিস্টান যোদ্ধা বন্দী হয়।  

১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে ২০ হাজার ফ্রাঙ্ক সৈন্য দ্বারা গঠিত শত্রুবাহিনীর মোকাবেলা করে সালাহউদ্দিন হিত্তিনের যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। জেরুজালেমের ল্যাটিন রাজ্যের অধিপতি লুসিনান মুসলমানদের হস্তে বন্দি হলেও সুলতান তার প্রতি সদয় ব্যবহার করেন। লুণ্ঠনবৃত্তির অপরাধে এবং সন্ধিচুক্তি অবমাননার দায়ে শত্রুপক্ষের লেভা রেজিনাল্ডকে প্রাণদণ্ডে করা হয়। এক সপ্তাহকাল অবরোধের পর জেরুজালেম করতে সমর্থ হন। ত্রিপলি, এন্টিওর, টায়ার এবং অপরাপর কয়েকটি অঞ্চল ব্যতীত মুসলমানগণ ল্যাটিন রাজ্যের সমস্ত এলাকা দখল করেন।

গাজী সালাহউদ্দীন আইয়ুবী ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজেতা। ক্রুসেডারেদের উপর্যুপরি আক্রমণের ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে ইসলামের রাজনৈতিক শক্তি যখন বিপন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম ঠিক সে মুহূর্তে সালাহউদ্দীন আইয়ুবী তার অসাধারণ প্রতিভা ও দূরদর্শিতা দ্বারা ইসলামের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক শক্তিকে সমুন্নত রাখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।