বক্সারের ‍যুদ্ধ

বক্সারের ‍যুদ্ধ

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তারে বক্সারের যুদ্ধ ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বাংলায় ইংরেজ শক্তির প্রতিষ্ঠার দিক হতে পলাশীর ‍যুদ্ধের তুলনায় বক্সারের যুদ্ধ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। পলাশীর যু্দ্ধে কেবল বাংলার নবাব পরাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব ও মুঘল সম্রাট এক সাথে পরাস্ত হন।

বক্সারের যুদ্ধঃ পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরকে নবাবের আসনে বসানো হয়। প্রথমদিকে ইংরেজদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে ইংরেজদের হাত থেকে মুক্তির লক্ষ্যে মীরজাফর ওলন্দাজ ও আর্মেনীয়দের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এ করণে ইংরেজরা মীর জাফরকে অপসারণ করে মীর কাশিমকে ক্ষমতায় বসায়। মীর কাশিম ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইংরেজদের সাথে ভবিষ্যতে তার সংঘর্ষ সুনিশ্চিত। তাই মীর কাশিম মুর্শিদাবাদ হতে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন এবং সৈনিকদেরকে উন্নত যুদ্ধ প্রণালী শিক্ষাদানের প্রয়াস পান। মীর কাশিমের সাথে ইংরেজদের বিবাদের অন্যতম কারণ ছিল অন্তর্দেশীয় বাণিজ্য সংক্রান্ত বিবাদ। পলাশীর পর হতে ইংরেজরা ব্যক্তিগত অন্তর্দেশীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিকল্পনা চিন্তা করেছিল, তার সাথে নবাবের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রশ্নটি জড়িত ছিল এবং এ কারণে কোম্পানির পক্ষে নবাবের সাথে মৈত্রি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এতদ্ভিন্ন কোম্পানি তথা ইংরেজ কর্মচারীদের নবাবের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ এবং অন্যদিকে নবাবের অর্থনৈতিক নীতি ও সাময়িক প্রস্তুতি উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। ১৭৬৩ খ্রি: উদয়নালার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাশিম পাটনায় আগমন করেন। ইংরেজ মেজর এ্যাডামস মুঙ্গের দখল করে পাটনা অভিমুখে অগ্রসর হলে মীর কাশিম উপায়ান্তর না দেখে নবাব সুজাউদ্দৌলার সাহায্যপ্রার্থী হন। অযোধ্যার নবাব ও দিল্লীর সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম সম্মিলিতভাবে মীর কাশিমের সাহায্যার্থে অগ্রসর হন। ১৯৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বক্সার প্রান্তরে সংঘটিত যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টর মুনরোর নিকট সম্মিলিত বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে। পলাশীর যুদ্ধ অপেক্ষা বক্সারের যুদ্ধ ছিল সুদূরপ্রসারী ও ভাগ্য নির্ধারণকারী যুদ্ধ। পলাশীর ‍যুদ্ধে ইংরেজদের ক্ষমতা বিস্তারের যে স্বপ্ন ছিল বক্সারের প্রান্তরে তা বাস্তবে রূপান্তরিত হয়। ম্যালেসন বক্সারের যুদ্ধকে চূড়ান্ত ফল নির্ণয়কারী যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।