বেকারত্ব বলতে কি বোঝ?

বেকারত্ব

বেকারত্ব একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে বেকারত্ব কমবেশি সব দেশেরই অন্যতম সামাজিক সমস্যা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এদেশের বেকার সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাজের সুযোগ না পেয়ে মেধা ও সামর্থ্যের অপচয় ঘটছে। ফলে তাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক প্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  

বেকারত্বের সংজ্ঞাঃ নেই যার কর্ম সে-ই বেকার। সাধারণত ব্যক্তির বেকার অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়। কর্মক্ষম ব্যক্তির কাজ করার ইচ্ছা থাক সত্ত্বেও যখন কাজ পায় না তখন সে অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়। সামাজিক দৃষ্টিতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষম ব্যক্তির কর্মসংস্থান না হওয়াকে বেকারত্ব বলে। সহজভাবে বলা যায়, পঙ্গু, অক্ষম ছাড়া সক্ষম ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত কর্মহীনতাই বেকারত্ব। অন্যভাবে বলা যায়, বেকারত্ব বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বুঝায় যাতে কর্মক্ষম শ্রমিক বর্তমান মজুরিতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও কর্মে নিয়োগ লাভে সক্ষম হয় না। আরো বলা যায়, ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কর্মক্ষম মানুষ ছুটিছাঁটা বাদ দিয়ে প্রতিদিন যদি ৮ ঘন্টার কাজ পায় তবে তাকেই কর্মে নিযুক্ত বলে ধরা হয়। আর এর বাইরে যারা পড়বে তারা বেকার, অর্ধ-বেকার এবং ছদ্ম বেকার।

-অধ্যাপক এ. সি পিগু (A. C. Pigou) বলেন, “যখন কর্মক্ষম ব্যক্তিরা যোগ্যতা অনুসারে প্রচলিত মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে চায় অথচ কাজ পায় না তখন তাকে বেকারত্ব বলা হয়।”

-অর্থনীতিবিদ জে. এম. কেইনস (J. M. Keynes) মতে, “বেকারত্ব বলতে প্রধানত অনিচ্ছাকৃত বেকারত্বকেই বুঝায়।” সমাজবিজ্ঞানী ম্যামোরিয়া (Memoria) বলেন, “বেকারত্ব হলো কর্মক্ষম লোকের কর্মহীনতা। এটি তাদের অনিচ্ছাকৃত ইচ্ছাকৃত অলসতা নয়।”

-অধ্যাপক আলবার্ট রিস (Albert Riss) বলেন, “যখন কোনো দেশে শ্রমিকরা প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও যোগ্যতানুযায়ী কাজ পায় না তখন সে অবস্থাকে বলা হয় বেকারত্ব।”

-`Everyman`s Dictionary of Economics` ‘গ্রন্থে প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়, “বেকারত্ব হলো কোনো ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত অলসতা যেখানে লোকটি প্রচলিত পারিশ্রমিকের হারে কাজ করতে চেয়েও পায় না।”

-এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকায় বেকারত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি কাজ করতে সমর্থ; কিন্তু কাজ খুঁজে পায় না, ব্যক্তির এ অবস্থাকে বেকারত্ব বলে। বেকার হিসেবে পরিগণিত হতে হলে একজন লোককে কর্মীবাহিনীর সক্রিয় সদস্য হতে হবে এবং লাভজনক কাজ খুঁজতে হবে।”

২০০২-২০০৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপ কমিটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, “দশ বছর বয়সের উপরের যেসব কর্মক্ষম ব্যক্তি শ্রমশক্তি জরিপের পূ্র্ববর্তী সপ্তাহে সক্রিয়ভাবে কর্ম লাভের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সাময়িক অসুস্থতা বা কর্মের সুযোগ না থাকায় কাজ করতে পারে নি, সেই ব্যক্তিই বেকার।”

কোনো সমাজের জনগণ যখন কাজ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রচলিত মজুরিতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পায় না তখন যে কর্মহীন অচল অবস্থার সৃষ্টি হয় সেই অবস্থার সার্বিক রূপকে বেকারত্ব বলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।