তেভাগা আন্দোলন কি?

বাংলায় সংগঠিত কৃষক আন্দোলনসমূহের মধ্যে ১৯৪৬-১৯৪৭ সালের তেভাগা আন্দোলন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলায় তেভাগা আন্দোলন ছিল বর্গাদারদের, জোতদারের সঙ্গে উৎপাদিত শস্য অর্ধেক ভাগাভাগির বদলে নিজের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ রাখার সংগ্রাম। এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত কৃষককুলের বিদ্রোহের প্রথম সচেতন প্রচেষ্টা।

তেভাগা আন্দোলনঃ বিশ শতকের বিশের দশকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও যশোর জেলার বর্গাদাররা দুই-তৃতীয়াংশ ফসলের দাবিতে যে নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির প্রতিরোধ আন্দোলনের সূচনা করেছিল তারই পথ ধরে ১৯৩৯ সালের কিষাণ সভার নেতৃত্বে বর্গাদাররা উত্তরবঙ্গে গড়ে তোলে শক্তিশালী এক আন্দোলন। বর্গাদাররা তাদের প্রাপ্য অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধিসহ আরো কতিপয় দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন করলেও শেষ পযর্ন্ত বর্গাদার ও জোতদারদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। কিন্তু ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সৃষ্ট নরকজ্বালা বাংলার কৃষককুলকে মৃতপ্রায় করেছিল। এ সময় কিষাণ সভার কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় বর্গাদারদের পরামর্শ দিয়েছিল জোতদারদের ফসলের ভাগ না দেওয়ার জন্য। এ প্রয়াস এবং ১৯৩৯ সালের আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় সম্মিলিতভাবে সংগ্রামী কাযর্ক্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে বর্গাদাররা ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জোতদারদের বিরুদ্ধে প্রধানত দুই-তৃতীয়াংশ ফসলের দাবিতে ‘তেভাগা আন্দোলন’ নামে এক সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলে যা তেভাগা আন্দোলন নামে খ্যাত।

কোম্পানির ভূমি রাজস্ব, শোষণ ও জমিদার জোতদারদের অত্যাচার ও উৎপীড়নের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী আন্দোলন ছিল কৃষক আন্দোলন। আর এই কৃষক আন্দোলনের মধ্যে উত্তরবঙ্গের তেভাগা আন্দোলন ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন শ্রেণী স্ব-স্ব স্বার্থপ্রণোদিত হয়ে তেভাগা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।