কৃষি বলতে কি বোঝ?

উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের জনগণের প্রধান উপজীবিকা হলো কৃষি। কৃষি এসব দেশের আয়ের প্রধান উৎস। জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান, শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বেশির ভাগই কৃষি থেকে আসে। কৃষি ব্যতীত মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিকে কেন্দ্র করে এদেশের উৎপাদন ব্যবস্থা আবর্তিত। তাই এদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।

কৃষির সংজ্ঞাঃ ‘কৃষি’র ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Agriculture।‘Agriculture’ শব্দটি দুটি ল্যাটিন শব্দ ‘Agros’ এবং ‘Cultura’ থেকে উদ্ভূত। ‘Agros’ অর্থ মাটি বা ভূমি এবং ‘Cultura’ অর্থ চাষ করা। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থে, ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকেই কৃষি বলে। সাধারণভাবে ভূমি কর্ষণ, ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা, শস্য উৎপাদন, শস্য সংরক্ষণ ইত্যাদি কৃষির অন্তর্ভুক্ত। কৃষি একটি ফলিত বিজ্ঞান। অন্যভাবে বলা যায়, কৃষি একটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, যার মাধ্যমে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে একত্রিত করে মানুষের প্রয়োজনীয় উৎপাদন, যেমন- গাছপালা, মৎস্য, ফসল ইত্যাদি উৎপন্ন করা যায়।

প্রামাণ্য সংজ্ঞাঃ কৃষিবিদ আর. এল. কোহেনের মতে, “কৃষি হলো ভূমি চাষাবাদের বিজ্ঞান ও শিল্প।” তার মতে “পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন শিল্প হলো কৃষি।”

-অর্থনীতিবিদ জি. ও. ব্রায়েন বলেন, “কৃষি হচ্ছে বিজ্ঞান, শিল্প ও ব্যবসা।”

-এ. আর. খানের মতে, “কৃষি হলো এক ধরনের সৃষ্ট সস্পর্কিত কর্ম, যা সেচ কৌশলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।”

-এম. আকাশ বলেন, “কৃষিকাজ হলো ভূমি কর্ষণ, বীজবপন, শস্য উৎপাদন ও পরিচর্যা, ফসল কর্তনসহ যা অরণ্যায়নের সাথে সম্পৃক্ত।”

সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায় যে, কৃষিপণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে আরম্ভ করে বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বন্টন সংক্রান্ত সব কাজই কৃষির অন্তর্ভুক্ত। মানুষের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বাংলাদেশে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে জে. ব্রায়ান বলেন, তোমরা যদি শহরগুলোকে গুঁড়িয়ে কৃষি খামারগুলোকে রক্ষা কর, তবে শহরগুলো আবার মন্ত্রের মতো গড়ে উঠবে। কিন্তু যদি খামারগুলোকে ধ্বংস কর, তবে শহরের রাস্তায় ঘাস গজাবে। অর্থাৎ কৃষির ধ্বংসের সাথে মানবজাতির ধ্বংস হয়ে যাবে। অতএব এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বাংলাদেশে কৃষির কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।