কারগিল যুদ্ধ

দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কাশ্মীর সমস্যা ছিল বিরাট হুমকিস্বরূপ। স্বাধীনতা লাভের পর ভারত ও পাকিস্তান এ পযর্ন্ত ৪ টি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৩ টি হলো কাশ্মীরকেন্দ্রিক। ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে মুক্তি লাভেল পর এই দুটি দেশ কখনই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণ করে নি। কাশ্মীরের কারগিল পর্বতশৃঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তা কারগিল যুদ্ধ নামে পরিচিত।

কারগিল যুদ্ধঃ ভূস্বর্গ কাশ্মীরের কারগিল পর্বতশৃঙ্গে অবস্থানরত পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের উপর বিমান হামলার ভিতর দিয়ে সূত্রপাত হয় পাক-ভারত যুদ্ধ। সীমিত পরিসরে হওয়ার কারণে কোনো পক্ষেই একে পরিপূর্ণ যুদ্ধ বলে নি। ভারতের সমর বিশেষজ্ঞ ও সামরিক কর্তৃপক্ষের মতে, এটি একটি ছায়াযুদ্ধ, যা গণমাধ্যমে কারগিল যুদ্ধ নামে পরিচিত। ছায়াযুদ্ধ হলেও ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় তিনশত অফিসার ও জওয়ান যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। ভারতের মতে পাকিস্তানিদের হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। এ যুদ্ধে অনেক বেসামরিক জনগণ প্রাণ হারিয়েছে এবং স্থানচ্যুত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরের দাস সেক্টরে ভারত ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটেছে। কারগিল ও দাস ভারতের গুরুত্বপূর্ন শহর যেখানে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়ে অবস্থিত। জাতিসংঘের মহাসচিব যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানান। এ যুদ্ধে ইউরোপ, আমেরিকা ভারতকে সমর্থন করে। কিন্তু চীন কারগিল যুদ্ধে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষ নেয় নি। ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি অনুযায়ী ভারত পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে পাকিস্তান যুদ্ধে নতী স্বীকার করে।

কারগিল যু্দ্ধে ভারত, আমেরিকা, ইউরোপ প্রভৃতি দেশের সমর্থন এই প্রথম পেয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান সরাসরি কোনো দেশের সমর্থন পায় নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাক-প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সাথে কারগিল যুদ্ধ নিয়ে তিন ঘন্টা আলোচনা করেন। শেষ পযর্ন্ত যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু মৌলবাদী শ্রেণী কাশ্মীর স্বাধীন না হওয়া পযর্ন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।