সাঁওতাল বিদ্রোহ কি?

১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট এক ফরমান বলে দিল্লির সম্রাট শাহ আলম কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের অধিকার দেন। প্রকৃত অর্থে নির্ধারিত রাজস্বের বিনিময়ে কোম্পানি দিল্লির সম্রাটের নিকট থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের দেওয়ানি লাভ করে। দেওয়ানি লাভের পর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের অনুসৃত নীতি ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রেণী ও জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থহানি ঘটায়। এমতাবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণী ও গোষ্ঠী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে অবতীর্ণ হয়। এসব বিদ্রোহের মধ্যে সাঁওতাল বিদ্রোহ উল্লেখযোগ্য।

সাঁওতাল বিদ্রোহঃ রাজমহলের পার্বত্যাঞ্চলে এবং বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সীমান্তের জঙ্গলে কৃষিজীবী সাঁওতাল সম্প্রদায় বসবাস করতো। এরা ছিল সহিষ্ণু ও পরিশ্রমী। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু হলে সাঁওতালদের উপর শুরু হয় নতুন জমিদারদের উৎপীড়ন। দীর্ঘদিন ধরে যে জমি চাষাবাদ করছিল তা আকস্মিকভাবে খাজনার আওতায় চলে যায়। ফলে খাজনা পরিশোধ করতে মহাজনদের দ্বারস্থ হতে হয় সাঁওতালদের। মহাজনরা তাদের নানাভাবে শোষণ করতো। এ উৎপীড়ন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য রাজমহলের পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী ‘মাঘি’ পরগনাইড নামক সাঁওতাল সর্দাররা ১৮৫৪ সালে প্রথমদিকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটায়। এ বিদ্রোহে প্রায় ৬০ হাজার সাঁওতাল অংশগ্রহণ করে এবং ব্রিটিশ সৈন্যদের নির্যাতনে ও সম্মুখ সমরে প্রায় ২৫ হাজার সাঁওতাল প্রাণ হারায়। তীর-ধনুক, লাঠিসোটা নিয়ে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সাঁওতালরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক রক্তিম ইতিহাস সৃষ্টি করে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের এ অসম যুদ্ধ ইতিহাসে সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ১৮৫৪-১৮৬৫ সাল পযর্ন্ত এ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।

ব্রিটিশ সরকারের দমন ও শোষণনীতির ফলে বাংলার কৃষক সম্প্রদায়ের ন্যায় সাঁওতালরাও চরম দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত হয়। মহাজনদের অত্যাচার, ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, ঠিকাদারদের জুলুম প্রভৃতির থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে সাঁওতালরা মহাজনদের অত্যাচার, ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, ঠিকাদারদের জুলুম প্রভৃতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সংগঠিত হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।