১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন কি?

১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষা আন্দোলন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের নামে যে চমক দেখান ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ ছিল তার মধ্যে অন্যতম। শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজের স্বার্থ বিরোধী হওয়ার এর বিরুদ্ধে গড়ে উঠা বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে “শিক্ষা কমিশন” বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে এবং পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র আন্দোলনের ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে তা ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।

৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনঃ ১৯৬২ সালের প্রথমার্ধে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টটি মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হলে এর বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজ যে ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলনের সূত্রপাত করে তা ইতিহাসে ‘বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন’ নামে খ্যাত। ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারী করাচিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারর্দীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং ১৯৬২ সালের ১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থ-বিরোধী পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান ঘোষণার পর থেকে এ সংবিধানের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে আন্দোলন গড়ে তোলে, ছাত্রসমাজের স্বার্থ বিরোধী শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট তাতে নতুন মাত্রা ও নতুন গতি সঞ্চার করে। শুধুমাত্র তিন বছরে বি. এ. পাস কোর্স চালুর বিষয়টিকে বাদ দিলে শিক্ষা কমিশনের অন্যান্য সুপারিশসমূহ ছিল সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-সমাজের স্বার্থবিরোধী। যার ফলে রিপোর্টটি মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হবার সাথে সাথে পূর্ববাংলার সচেতন ছাত্রসমাজ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন শুরু করে এবং অচিরেই পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজের স্বার্থ বিরোধী শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিলের দাবি জানায়। এ দাবি আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলনে পরিণতি লাভ করে। সমগ্র দেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এ আন্দোলনের ফলে সরকার শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ স্থগিত করে।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন পূর্ববাংলার ছাত্র-আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। আইয়ুব খান কর্তৃক নিযুক্ত শিক্ষা কমিশন বিশেষ করে দারিদ্র্য-পীড়িত পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজের স্বার্থ-বিরোধী শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করলে সচেতন ছাত্রসমাজ এর বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সূচনা করে তা বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে ব্যাপক আন্দোলনে পর্যবসিত হয়। অতঃপর ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে ছাত্র স্বার্থ বিরোধী শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট স্থগিত হবার মধ্য দিয়ে শিক্ষা-আন্দোলনের সাফল্য অর্জিত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।