উড়িষ্যার পাইক-বিদ্রোহ কি?

পলাশির যুদ্ধে জয়লাভ করে ব্রিটিশরা যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বক্সারের যুদ্ধের পর তাদের সেই প্রভাব অপ্রতিহত হয়। উপরন্তু ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের মধ্য দিয়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা তথা সমগ্র ভারতে ব্রিটিশদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুপ্রশস্ত হয়। দেওয়ানি লাভের পর থেকে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক তথা সামগ্রিক ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের অনুসৃত নীতি ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রেণী ও জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থহানি ঘটায়। এমতাবস্থায় যেসব শ্রেণী ও গোষ্ঠী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে অবতীর্ণ হয় তাদের মধ্যে উড়িষ্যার পাইক-বিদ্রোহ অন্যতম।

উড়িষ্যার পাইক-বিদ্রোহঃ উড়িষ্যার জমিদারদের অধীনে দুর্ধর্ষ পাইকরা জীবিকা নির্বাহ করতো। পাইকরা ছিল আধাসামরিক এবং তাদের সর্দারদের অনুগত। অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্যের ফলে উড়িষ্যার বহু জমিদার তাদের জমিদারি হারালে পাইকরাও জীবিকা হতে বঞ্চিত হয়। ফলে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে পাইকদের অসন্তোষ ধূমায়িত হতে থাকে। উপরন্তু ‘খুরদা’ অঞ্চলের জনপ্রিয় রাজার জমিদারি ইংরেজরা বাজেয়াপ্ত করলে পাইকরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ১৯১৭ সালে উড়িষ্যার পাইকদের এ বিদ্রোহ হিংসাত্মক রূপ লাভ করে। পাইকরা বাহারামপুরের পুলিশ ঘাঁটি ও সরকারি কার্যালয়গুলোর উপর আক্রমণ চালায় এবং প্রায় একশত ইংরেজকে হত্যা করে। বিদ্রোহীরা খুরদার দিকে অগ্রসর হয়ে শহরের যাবতীয় সরকারি বাড়িগুলো জ্বালিয়ে দেয় এবং সরকারি খাজাঞ্চিখানা লুট করে। এ বিদ্রোহের ফলে কিছুদিনের জন্য উড়িষ্যায় ইংরেজ শাসন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, ধর্মীয় প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অংশে যেসব সশস্ত্র বিদ্রোহ গড়ে উঠেছিল এদের মধ্যে পাইক বিদ্রোহ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।