কুটির শিল্প

যেকোনো দেশে কুটির শিল্প লোকায়ত ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। সাধারণত ঘরোয়া পরিবেশে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় স্বল্প মূলধনে সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে এ শিল্প গড়ে উঠে। এ শিল্পের বৈশিষ্ট্য হলো সামান্য পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করা যায় এবং অবসর সময়ে এর উৎপাদন প্রক্রিয়া চালানো যায়। এককালে বাংলাদেশের কুটির শিল্প ছিল যথেষ্ট ঐতিহ্যপূর্ণ। দেশ-বিদেশে এ শিল্পের ছিল অসামান্য কদর।

কুটির শিল্পঃ কুটির শিল্প প্রধানত পারিবারিক ভিত্তিতে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে শিল্পে পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা পারিবারিক পরিবেশে উৎপাদন কাজ পরিচালিত হয় তাকে কুটির শিল্প বলে। অন্যভাবে বলা যায়, পারিবারিক পরিবেশে সহজলভ্য যন্ত্রপাতি ও স্বল্প মূলধনের সাহায্যে যে শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া চালানো হয় তাকে কুটির শিল্প বলে। সাধারণত কুটির শিল্পের মালিকরাই মূলধনের যোগান দিয়ে থাকে। কুটির শিল্পে স্বল্প মূলধন, সহজলভ্য যন্ত্রপাতি এবং স্বল্প-শ্রম ব্যবহৃত হয় বলে উৎপাদনের পরিমাণও কম হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে কুটির শিল্পের প্রেক্ষাপট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে কুটির শিল্পের উন্নয়ন আবশ্যক। বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্পখাতে নিয়োজিত মোট শ্রমিকের বৃহদাংশ কুটির শিল্পখাতে নিয়োজিত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।