৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট

৭ মার্চ ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। এদিনে বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিকাল ৩টায় বিশাল জনসমাবেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাংলাদেশের আপামর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপটঃ ১৯৭০ সালের ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ও পশ্চিম পাকিস্তানে পিপলস পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তবে আওয়ামী লীগ সমস্ত পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। নিয়ম অনুযায়ী আওয়ামী লীগেরই সরকার গঠন করার কথা। এমনকি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানও একবার ঘোষণা করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানই দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু জুলফিকার ভুট্টোর পিপলস পার্টি পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তিনি শুধু আওয়ামী লীগের দ্বারা সরকার গঠনের কথাটি মেনে নিতে রাজি হলেন না। ১৫ ফেব্রুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষণা করেন যে, ৬ দফা দাবির রদবদল করা না হলে তার দল জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করবে না। ১ মার্চ, ১৯৭১ আকস্মিকভাবে জেনারেল ইয়াহিয়া ঘোষণা করেন যে, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। জাতীয় পরিষদ স্থগিত ঘোষণায় শেখ মুজিব তীব্র প্রতিবাদ জানালেন এবং এর বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা বাংলায় হরতাল, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভা আহবান করা হয়। এই রেসকোর্স ময়দানেই (যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত) তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।

ঐতিহাসিক দিক থেকে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশ যখন এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছিল ঠিক তখনই জাতির উদ্দেশ্যে তার ভাষণ জনসাধারণকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছিল। তার ঘোষণা অনুযায়ী বাঙালি সেদিন থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।