গিফেন দ্রব্য কি? বা গিফেন দ্রব্য কাকে বলে?

ইংরেজ পরিসংখ্যানবিদ রবার্ট গিফেন অর্থনীতিতে গিফেন দ্রব্যের ধারণাটি সম্পৃক্ত করেন। গিফেন দ্রব্য বলতে তিনি এমন কিছু সস্তা ও নিকৃষ্ট দ্রব্যকে বুঝান, যা সাধারণত সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর লোকেরা ভোগ করে থাকে। চাহিদা বিধি অনুসারে কোনো দ্রব্যের দাম হ্রাস পেলে চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং দাম বৃদ্ধি পেলে চাহিদা হ্রাস পায়। কিন্তু গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে চাহিদা বিধির এ নিয়ম প্রতিফলিত হয় না। গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত দাম ভোগ রেখা (PCC) সাধারণ দ্রব্যের PCC রেখা থেকে ভিন্ন হয়।

গিফেন দ্রব্যঃ জীবনধারণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় নিকৃষ্ট দ্রব্য; যেমন-মোটা চাল, মোটা কাপড় প্রভৃতির দাম বৃদ্ধি পেলে দরিদ্র জনসাধারণ অন্যান্য উৎকৃষ্ট দ্রব্য; যেমন- মাছ, মাংস প্রভৃতির ভোগ কমিয়ে দিয়ে এসব চড়া দামের নিকৃষ্ট দ্রব্যগুলি বেশি পরিমাণে ক্রয় করে। সুতরাং এসব দ্রব্যের ক্ষেত্রে দাম বাড়লে চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং দাম কমলে চাহিদা হ্রাস পায়। অর্থাৎ এসব দ্রব্যের ক্ষেত্রে চাহিদা বিধি কার্য্কর হয় না। স্যার রবার্ট গিফেন এসব দ্রব্যের কথা প্রথম উল্লেখ করেন বলে তার নামানুসারে এগুলোকে গিফেন দ্রব্য বলা হয়।

স্বাভাবিক দ্রব্যের ক্ষেত্রে আয় প্রভাব ধনাত্মক হয়। কিন্তু নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে আয় প্রভাব ঋণাত্মক হয়ে থাকে। আয় প্রভাব বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে ঋণাত্মক হলেও পরিবর্তক প্রভাব কখনোই ঋণাত্মক হয় না। অর্থাৎ পরিবর্তক প্রভাব সব ক্ষেত্রেই ধনাত্মক হয়ে থাকে। গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তক প্রভাব ধনাত্মক হলে ঋণাত্মক আয় প্রভাব তা অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী হয়। ফলে এসব ক্ষেত্রে দাম প্রভাব ঋণাত্মক হয়। চাহিদাও হ্রাস পায়। সুতরাং যেসব নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে ধনাত্মক পরিবর্তক প্রভাব অপেক্ষা ঋণাত্মক আয় প্রভাব অধিকতর শক্তিশালী হয়, সেসব দ্রব্যকে গিফেন দ্রব্য বলে।

কোনো দ্রব্যের মূল্যের পরিবর্তন ঘটলে ভোক্তার দ্রব্য ক্রয়ে পরিবর্তন আসে। একে দাম/মূল্য প্রভাব বলে মূল্য প্রভাব হলো আয় ও বিকল্পন প্রভাবের সমষ্টি। গিফেন দ্রব্য হলো একটি বিশেষ ধরনের নিকৃষ্ট দ্রব্য, যা দ্রব্যের দাম ও চাহিদার সাথে একমুখী সম্পর্ক নির্দেশ করে। স্যার রবার্ট গিফেন মূলত সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর লোকদের অভাববোধ ও চাহিদার প্রতি লক্ষ রেখেই এ তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।

নিকৃষ্ট দ্রব্য কি?

যেসব দ্রব্য সামগ্রী দরিদ্র জনসাধারণ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকে। যেমন- মোটা চাল, মোট কাপড়, নিম্ন মানের খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদিকে নিকৃষ্ট দ্রব্য বলা চলে। তবে অন্য পরিভাষায় গিফেন দ্রব্যকেই নিকৃষ্ট দ্রব্য বলা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।