কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব

কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব ম্যালথাসীয় জনসংখ্যা তত্ত্বের প্রতিক্রিয়ার ফল। সর্বপ্রথম K. Wieksell ‘কাম্য জনসংখ্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক হেনরি সিজউয়িক তার `The Principle of Political Economy` গ্রন্থে কাম্য জনসংখ্যা ধারণার বহিঃপ্রকাশ করেন। অধ্যাপক ক্যানন তার `Wealth` গ্রন্থে কাম্য জনসংখ্যা ধারণা তত্ত্বাকারে ‍উপস্থাপন করেন। কাম্য জনসংখ্যা ধারণা রবিন্স, ডাল্টন এবং সানডারসন কর্তৃক সমর্থন লাভ করে। কাম্য জনসংখ্যা বলতে জনসংখ্যার এমন স্তরকে নির্দেশ করে যেখানে উৎপাদন ও আয় সর্বাধিক হয়।

কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বঃ আধুনিক অর্থনীতিবিদগণ জনসংখ্যা সম্বন্ধে একটি নতুন তত্ত্ব প্রচার করেন। এ তত্ত্বটি কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব নামে পরিচিত। একে আদর্শ জনসংখ্যা তত্ত্বও বলা যায়। এ তত্ত্ব অনুযায়ী কোনো দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে জনসংখ্যা বিদ্যমান থাকলে জনগণের মাথাপিছু আয় সর্বাধিক হয় তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। অর্থাৎ একটি দেশের জনসংখ্যা যে পরিমাণ হলে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জন ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় তাই কাম্য জনসংখ্যা।

কোনো দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কাম্য জনসংখ্যা চেয়ে বেশি হলে তাকে অধিক জনসংখ্যার দেশ বলে। পক্ষান্তরে, প্রকৃত জনসংখ্যা কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে কম হলে তাকে নিম্ন জনসংখ্যা বলে। দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কাম্য জনসংখ্যা অপেক্ষা বেশি হোক বা কম হোক উভয় ক্ষেত্রেই মাথাপিছু আয় কম হবে। প্রকৃত জনসংখ্যা কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে বেশি হলে কিছু লোক সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে বেকার থাকে আবার প্রকৃত জনসংখ্যা কাম্য জনসংখ্যা অপেক্ষা কম হলে দেশের সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয় না। ফলে মাথাপিছু আয় কম হয়।

তত্ত্ব হিসেবে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অপেক্ষা কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব অধিকতর উন্নত। ম্যালথাস তার তত্ত্বে মানব জাতির মনে ত্রাস ও হতাশা সৃষ্টি করেছেন। কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের প্রচারকগণ তাদের মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মানব জাতির মন থেকে ম্যালথাসীয় হতাশাবাদ দূর করে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তাই ম্যালথাসের তত্ত্ব অপেক্ষা কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব উন্নত ও অধিক গ্রহণযোগ্য-একথা বললে অত্যুক্তি হবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।