মামলুক বংশ

মামলুক বংশ বা দাস বংশ কি এবং কি এদের পরিচয়

জগতের অতি অল্প রাজ বংশই মিশরের মামলুক সুলতানদের ন্যায় খ্যাতি লাভে সমর্থ হয়েছে। মামলুকগণ মিশরে প্রায় তিনশত বৎসর রাজত্ব করেন। তাদের সুদীর্ঘ রাজত্বকাল ইসলামের ইতিহাসে নানা দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মহান সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের মহাদুর্দিনে মামলুকগণ ইসলামকে আসন্ন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

প্রতিষ্ঠাতাঃ আইয়ুবী বংশের ধ্বংস স্তুপের উপর আস সালাহর বিধবা পন্থী সাজার উদদার মিশরে মামলুক বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

মামলুক কারাঃ মামলুক আরবি ‘মালাকা’ শব্দ হতে উদ্ভুত। এর অর্থ ক্রীতদাস বা অধীনস্থ দাস। মিশরে যুদ্ধ বন্দিদেরকে দাস রূপে বাজারে বিক্রি করা হতো। এ বিক্রিত দাসদিগকে “মামলুক” বলা হতো। মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায় বিশেষ করে মোঙ্গল ও তুর্কী ক্রীতদাসগণ আইয়ুবী সুলতানদের অধীনে একটি সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তারাই পরবর্তীকালে একটি সামরিক বাহিনী গঠন করেন এবং পরিশেষে মিশরে স্বাধীন মামলুক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ বংশের সকল সুলতানই দাস ছিলেন বলে তাদের শাসনকে মামলুক শাসন বা দাস শাসন বলা হতো।

প্রকারভেদঃ মামলুকগণ বাহরী ও বুরুজী এ দু’শাখায় বিভক্ত ছিল। বাহরী মামলুকগণ (১২৫০-১৩৮২) মূলত আইয়ুবী সুলতান আসসালের ক্রীতদাস ছিলেন। সুলতান তাদেরকে নীল নদের আল-রাওদা দ্বীপের ছাউনীতে বসবাস করতে দিয়েছিলেন। নদীর মধ্যে বসতি ছিল বলে তাদেরকে বাহরী বলা হতো। অর্থাৎ বাহার বা নদী সেনানিবাসে অবস্থান করতো বলে তাদেরকে বাহরী মামলুক বলা হতো।

অন্যদিকে, বরুজী মামলুকগণ (১৩৮২-১৫১৭ খ্রিঃ) ককেসিয়ার অধিবাসী ছিলেন। প্রহরী বাহিনী রুপে গঠিত হওয়ার পর সুলতান তাদেরকে দুর্গ ও প্রসাদের বুরুজে থাকতে দিয়েছিলেন বলে তারা বুরুজী মামলুক নামে পরিচিত হয়েছিলেন। মামলুকদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার ইতিহাস অত্যন্ত ঘৃণিত হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব যথেষ্ঠ রয়েছে। তারা দু’শাখায় বিভক্ত হয়ে ২৪ জন বাহরী মামলুক এবং ২৩ জন বুরুজী মামলুক ১২৫০ হতে ১৫১৭ সাল পযর্ন্ত রাজত্ব করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।