অংকন বলতে কি? অংকনের শ্রেণীবিভাগ আলোচনা কর। অংকন এর ক্ষেত্রে ট্রেডম্যানের ভূমিকা কি?

অংকন বলতে কি? অংকনের শ্রেণীবিভাগ আলোচনা কর। অংকন এর ক্ষেত্রে ট্রেডম্যানের ভূমিকা কি?

অংকন বা ড্রইং (Drawing)

কোন একটি বস্তু বা বস্তুর অংশবিশেষ একটি সমতলের উপর সংক্ষিপ্ত ও সম্পূর্ণভাবে ইহার আকৃতি, প্রকৃতি, পরিদর্শন এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক তথ্যসম্বলিত কতগুলি ভিন্ন ভিন্ন রেখার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তকরণের ভাষাকেই অংকন বা ড্রইং বলে।

অথবা, কোন একটি বস্তুকে একটি কাগজের উপরে নিয়মতান্ত্রিক রেখাসমূহের মাধ্যমে উপস্থাপন করার কৌশলকেই অংকন বলা হয়।

নক্সাঃ কোন বস্তু বা বস্তুসমূহ তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী মুক্ত হস্তে অংকনের সাহায্যে বিবৃত করাকেই নক্সা বলে।

অংকনের উদ্দেশ্যঃ-

মানুষের মনের ভাবকে অন্যের নিকট প্রকাশ করিতে যেমন ভাষার প্রয়োজন, কবি ও লেখকেরা তাহাদের মনের অভিব্যক্তিকে যেমন কবিতা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে ব্যক্ত করিয়া তোলে, শিল্পীরা তাহাদের শিল্পের মাধ্যমে শিল্পকে সৌন্দর্য মন্ডিত করিয়া তোলে, ঠিক তেমনি কারিগরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে কোন বস্তু তৈরী, ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশনের কাজে কতকগুলি ভিন্ন ভিন্ন রেখার মাধ্যমে তাহাদের বিষয়টিকে অপরের কাছে উপস্থাপন করাই অংকন এর উদ্দেশ্য। তাই প্রকৌশলবিদগণের উক্তি হলোঃ “Drawing is the language of Engineer”.

অংকন এর শ্রেণীবিভাগঃ

অংকন কে প্রধানত দুই বিভাগে ভাগ করা যাইতে পারে, যথাঃ

১. শৈল্পিক অংকন ()

২. প্রকৌশল অংকন ()

প্রকৌশল অংকন কে নিম্নলিখিত প্রধান ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে, যথাঃ

১. জ্যামিতিক অংকন ()

২. যান্ত্রিক অংকন ()

৩. পুরাকৗশল অংকন ()

৪. তড়িৎকৌশল অংকন ()

১. জ্যামিতিক অংকন কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ-

ক) প্লেন জ্যামিতিক অংকন

খ) সলিড জ্যামিতকি অংকন

২. যান্ত্রিক অংকন কে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে, যথাঃ-

ক) চাদর ধাতুর বিদ্যা অংকন

খ) সামুদ্রিক অংকন

গ) বায়ুকৌশল অংকন

ঘ) ক্ষুদ্র খাস কামরা অংকন

৩. পূরকৌশল অংকন কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ-

ক) স্থাপতিবিদ্যা কিষয়ক অংকন

খ) অট্টালিকার গঠন সম্মন্ধীয় অংকন

উহাদের বর্ণনাঃ

১। শৈল্পিক অংকনঃ একজন চিত্রকর কোন একটি বস্তুকে নিজস্ব কল্পনার মাধ্যমে অথবা বস্তুটিকে সামনে রাখিয়া যেমন- পেইন্টিং, সিনেমা স্লাইড, বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড ইত্যাদিতে উপস্থাপন করার কৌশলকেই শৈল্পিক অংকন বলে। শৈল্পিক অংকন সাধারণতঃ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।

২। প্রকৌশল অংকনঃ প্রকৌশল সম্বন্ধীয় বস্তু, যেমন- ইমারত, সড়ক, মেশিন ও যন্ত্রপাতীসমূহ একটি কাগজের উপরে উপস্থাপন করার কৌশলকেই প্রকৌশল অংকন বলে।

জ্যামিতিক অংকনঃ জ্যামিতিক বস্তুসমূহ যেমনঃ আয়তক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, কোণ, সিলিন্ডার, গোলক ইত্যাদি একটি কাগজের উপর উপস্থাপন করার কৌশেই জ্যামিতিক অংকন নামে পরিচিত।

ক) প্লেন জ্যামিতিক অংকনঃ বস্তু সমূহকে দ্বিমাত্রিক ভাবে বা দৈর্ঘ্য ও বিস্তার যেমন- বর্গক্ষেত্র, আয়তক্ষেত্র, ত্রিভুজ ইত্যাদি একটি কাগজের উপর রেখার মাধ্যমে উপস্থাপন করার পদ্ধতিকে প্লেন জ্যামিতিক অংকন বলে।

খ) সলিড জ্যামিতিক অংকনঃ বস্তু সমূহকে ত্রিমাত্রিকভাবে বা দৈর্ঘ্য বিস্তার ও পুরুত্ব যেমন- কোণ, সিলিন্ডার, গোলক ইত্যাদি একটি কাগজের উপর রেখার মাধ্যমে বর্ণনা করার কৌশলকেই সলিড জ্যামিতিক অংকন বলে।

যান্ত্রিক অংকনঃ যে অংকন এর মাধ্যমে কোন পরিকল্পক সীট মেটাল, ইঞ্জিন, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, মেশিন, মেশিনারী পার্টস, ইলেকট্রিক্যাল, এয়ার ক্রাফটস প্রভৃতি যন্ত্রপাতি ও দ্রব্য সামগ্রীর কার্য পদ্ধতি, কার্য ক্ষমতা, সংযোগ পদ্ধতি পরিচালনা, পদার্থের উপাদান ও সংমিশ্রণ ইত্যাদি গুণাবলির বর্ণনা বিশ্লেষণ করিয়া থাকেন, তাহাকে যান্ত্রিক অংকন বলে।

পুরকৌশল অংকনঃ যে অংকনকে ডিজাইন এবং কনষ্ট্রাকশন যেমনঃ- রোড, বিল্ডিং, ব্রীজ ও বাঁধসমূহ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহাকে পুরকৌশল অংকন বলে।

তড়িৎকৌশল অংকনঃ যে অংকন বৈদ্যুতিক বস্তুসমূহের ডিজইন ও কনষ্ট্রাকশন, যেমন- মটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার, পোল, টাওয়ার ইত্যাদি তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহাকে তড়িৎকৌশল অংকন বলে।

অংকন এর ক্ষেত্রে ট্রেডম্যানের ভূমিকাঃ

কারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির প্রথম ধাপ বা পদক্ষেপ অংকন। কারণ অংকন ব্যতীত কোন কর্মী বা প্রশিক্ষার্থী মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও কন্সট্রাকশনের ব্যবহারিক কাজ করিতে পারবে না। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নমুনা ছাড়াই কাজ এর প্রতিটি অংশের মাপ, পরিমাপ, কার্যপদ্ধতির প্রতি লক্ষ করিয়া কাজ প্রস্তুত করিতে হয়। সেই জন্য অংকন এর সাহায্যে একমাত্র ঐ সমন্ত মাপ, পরিমাপ লইয়া কর্মী বা প্রশিক্ষার্থীরা কাজের উপর প্রত্যক্ষ কাজ করিতে পারে।

প্রতিটি ক্ষেত্রে যদিও পরিকল্পক (ডিজাইনার), ড্রাফটম্যান প্রত্যেক কাজের জন্য নির্ভুল অংকন দিয়ে থাকে। তথাপি প্রেডম্যানদের ঐ কাজের ব্যাপারে কম-বেশি অংকন সম্পর্কে জ্ঞান থাকিতে হয়। যেহেতু ট্রেডম্যানরাই ঐ কাজের পরিপূর্ণ দ্রব্য উৎপাদনের ভূমিকায় সক্রিয় অংশ গ্রহণ করিয়া থাকেন। নচেৎ ট্রেডম্যানরা নমুনা ব্যতীত কোন পরিকল্পিত কাজ করিতে পারিবে না।

মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও পুরকৌশল যেকোন ধরনের অংকন এর সাহায্যে ট্রেডম্যানরা নিপুনতার সহিত নিক্য নতুন কোন কিছুর উপযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আবিষ্কারকদেরকে সাহায্যে করিতেছে। কাজেই মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও পুরকৌশল অংকন এর ক্ষেত্রে ট্রেডম্যানের ভূমিকা যথোপযুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ।

2 Replies to “অংকন বলতে কি? অংকনের শ্রেণীবিভাগ আলোচনা কর। অংকন এর ক্ষেত্রে ট্রেডম্যানের ভূমিকা কি?”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।