মাইক্রোপ্রসেসর কি? মাইক্রোপ্রসেসর বেজড্ পদ্ধতি বলতে কি?

মাইক্রোপ্রসেসর কি? মাইক্রোপ্রসেসর বেজড্ পদ্ধতি বলতে কি?

কম্পিউটারের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মাইক্রোপ্রসেসর বা সি পি ইউ। এই মাইক্রোপ্রসেসর কিছু করতে পারবে না যতক্ষণ পযর্ন্ত তাকে প্রোগ্রাম আকারে ইন্সট্রাকশন না দেওয়া হবে।

মাইক্রোপ্রসেসর বেজড্ পদ্ধতি

Microprocessor Based System

মাইক্রোপ্রসেসর হলো Programmable Logic যন্ত্র বা device. এই device টা শুধু প্রোগ্রামার কর্তৃক তৈরি করা বাইনারি ডেটা (Binary Instruction) সমৃদ্ধ প্রোগ্রামকে বুঝতে পারে এবং তা Execution করতে পারে। বাইনারি বা ডিজিটাল বলতে শুধুমাত্র শূন্য (0) এবং এক (1) দ্বারা তৈরি করা Instruction বুঝায়। আমরা যেমন ডেসিমল পদ্ধতিতে 0 থেকে শুরু করে 9 পযর্ন্ত 10 টা ডিজিট দ্বারা যে কোন সংখ্যা লেখতে পারি, তেমনি বাইনারি বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে 0 এবং 1 দুইটি ডিজিট দ্বারা যেকোন Instruction তৈরি করা যায় বা ক্যারেকটারকে উপস্থাপন করা যায়।

Microprocessor Based Systems এ যাবার আগে বাইনারি বা ডিজিটাল পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে একটু ধারণা নেওয়া যাক।

যেমন- আমাদের দেশে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ (Electricity) এর ক্লক পাল্স (Clock Pulse) 50 HZ (Hertz) । এ জন্য অনেক ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতির গায়ে 50HZ লেখা থাকে। এর অর্থ হল বিদ্যুৎ শক্তিটা প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার জ্বলছে এবং ৫০ বার নিভছে। একবার জ্বলা এবং একবার নিভায় একটা সাইকেল সম্পন্ন হয় এবং একে 1 Hertz বা সংক্ষেপে HZ বলে। জ্বলা এবং নিভা এত দ্রুত সম্পন্ন হয় যে আমরা বিদ্যুৎকে স্থিরভাবে জ্বলতে দেখি। কারণ আমাদের চোখে প্রতি সেকেন্ডে ১০ বারের চেয়ে বেশি কোন বস্তুকে জ্বলা এবং নিভা দেখলে তার একটাকে আরেক অবস্থা থেকে পার্থক্য করতে পারে না। ফলে চলমান বা বিরতিহীন জ্বলছে বলে মনে হয়। এই জ্বলাটাকে বাইনারি বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে 1 দ্বারা এবং নিভাটাকে 0 দ্বারা উপস্থাপন করা যায়।

ডিজিটাল পদ্ধতির আগে আমরা আরেকটা পদ্ধতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, তা হল অ্যানালগ সিস্টেম (Analogue System)। বাস্তব জীবনে আমাদের দেশে বহু Analogue System এর উদাহরণ আছে। যেমন- টেলিফোন সিস্টেম বা টেলিফোন লাইন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রচার ইত্যাদি উন্নত দেশগুলোতে Analogue System পরিত্যাগ করে ডিজিটাল সিস্টেম বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে। ডিজিটাল সিস্টেমের সুবিধা অনেক। যেমন ডিজিটাল পদ্ধতিতে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রচার করলে ছবির মান ভালসহ গ্রাহক আরো অনেক ধরনের বাড়তি সুবিধা পাবে। অবশ্য আমাদের দেশে কিছু কিছু টেলিফোন লাইন Analogue থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়েছে এবং বাকীগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে।

ডিজিটাল পদ্ধতি শুধুমাত্র দুইটা অবস্থা (State) আছে যথা State 1 বা 1 এবং State 0 বা 0 . 1 এবং 0 এর মাঝে আর কোন অবস্থা (State)  নেই। কিন্তু Analogue পদ্ধতিতে 0, 1 ছাড়াও আরো অনেক State আছে অর্থাৎ 0, 1, 2, 3,…..9 দ্বারা প্রকাশ করা যায়। ডিজিটাল এবং অ্যানালগ পদ্ধতির ভিতর পার্থক্য বুঝাবার জন্য এবার একটা সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক। একটা অ্যানালগ ঘড়ি অর্থাৎ চাবিযুক্ত কাঁটাওয়ালা ঘড়ি এবং কাঁটাওয়ালা ইলেকট্রনিক্স(ডিজিটাল)ঘড়ির দিকে লক্ষ্য করুন। চাবিযুক্ত কাঁটাওয়ালা ঘড়ির কাঁটা সুষম গতিতে বিরামহীনভাবে চলে আর ডিজিটাল ঘড়ির কাঁটা একটু থেমে থেমে এক ধাপ এক ধাপ করে অগ্রসর হয় যার চলমান অবস্থাকে 1 এবং থামা অবস্থাকে 0 দ্বারা প্রকাশ করা যায়।  

একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার লজিকের ভিত্তিতে নিউমেরিক অপারেটর (Numeric Operator) যেমন +,-,*,÷ ইত্যাদি, লজিক্যাল অপারেটর (Logical Operator) যেমন- Less than (˃) Greater than (˂), Equal (=), Less than or Equal (≥) ইত্যাদি, প্রোগ্রাম সিনট্যাক্স (Program Syntax) যা অনেকটা English ভাষার মত যেমন- IF, While, Do, ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রোগ্রাম তৈরি করেন যাকে মাইক্রোপ্রসেসর সরাসরি বুঝতে বা পড়তে পারে না। মাইক্রোপ্রসেসরে প্রোগ্রাম বা Instruction কে বাইনারি পদ্ধতিতে ইনপুট হিসাবে দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের অনুবাদক বা Translator প্রোগ্রাম আছে যেমন- Assembler, Compiler এবং Interpreter যারা প্রোগ্রামারের তৈরি করা প্রোগ্রামকে বাইনারি বা ডিজিটাল কোড বা Instruction এ রূপান্তর করতে পারে। তখন একে Object Code বা Machine Code বলে। মাইক্রোপ্রসেসর বাইনারি বা ডিজিটাল পদ্ধতির এ সমস্ত Code কে সহজে পড়তে পারে এবং লজিক অনুসারে Execution সম্পন্ন করে।

Microprocessor, Object Code  বা Machine Code কে পড়ে একটা ক্রম অনুসারে তাকে Process করে। Process করার সময় অস্থায়ীভাবে ডাটাগুলোকে জমা রাখে এবং Process শেষে তাকে আবার ফেরৎ পাঠায়। এ জন্য মাইক্রোপ্রসেসর ন্যূনতম পক্ষে আরো দুইটা ডিভাইজ এর সাথে যুক্ত থাকে। তাদের একটাকে Memory এবং আরেকটাকে Input/Output (I/O) Devices বলে। তখন একে Microprocessor Based Systems বলে। এই সিস্টেম থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা বা এই সিস্টেমের দ্বারা বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের সাথে আরো অন্যান্য ডিভাইজ যুক্ত করতে হবে।

একটা সহজ Microprocessor Based Systems এর Simplified Diagram হলো

উপরের চিত্রে তিনটি ডিভাইজ বা Components পরস্পর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে বাইনারি ডেটা আদান-প্রদান করে। এই ডিভাইজ বা Components কে হার্ডওয়্যার (Hardware) বলে। ব্যাপক অর্থে কম্পিউটার সিস্টেম বা মাইক্রোপ্রসেসর বেসড সিস্টেমস এর Equipment’s বা Components কে Hardware বলে। মাইক্রোপ্রসেসর কর্তৃক প্রসেস করার জন্য অবজেক্ট কোড বা মেশিন কোড এর বাইনারি বা ডিজিটাল ডেটা বা ইন্সট্রাকশনকে প্রোগ্রাম বলা হয়। কতকগুলো প্রোগ্রামেরর সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। সফটওয়্যার প্রোগ্রামার কর্তৃক লেখা হয় যা হার্ডওয়্যার কে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।